শ্মশানের জায়গা দখল করে চলছে মসজিদের ভিত নির্মাণ কাজ, হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক

 Posted on

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের কাঁকশিয়ালী নদীর তীরে মলম বরেয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে ১২০ বছরের পুরাতন শ্মশানের জায়গা দখল করে মসজিদ বানানো হচ্ছে। এ নিয়ে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মলম বরেয়া শ্মশান পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল জানান, তেঁতুলিয়া ও মলম বরেয়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন দীর্ঘ ১২০ বছর ধরে এ শ্মশানে লাশ সৎকার করে আসছে। অপরদিকে গোবিন্দকাটি খেয়াঘাট থেকে চেটা পুকুর পর্যন্ত কাঁকশিয়ালী নদীর তারালী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে প্রায় ১০০ একর জমির মধ্যে শ্মশান ও শ্মশানের প্রয়োজনে নির্মিতপুকুরসহ এক বিঘা জমি ব্যতীত সকল জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে ডিসিআর না নিয়েই একটি মহল বসবাস ও মাছের ঘের করে আসছে। তেঁতুলিয়া গ্রামের বহুল আলোচিত প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক সানার ছেলে বাদশা সানা বেশ কিছু জমি দখল করে মাছ চাষ করলেও কয়েক মাস আগে তা অন্যত্র হস্তান্তর করেন। হস্তান্তরের আগে ওই এলাকায় মসজিদ নির্মাণের কথা হলে বাদশা সানার দখলীয় জমিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে মসজিদ নির্মাণের কথা ছিল।

তিনি অভিযোগ করেন গত ৭ এপ্রিল সকালে নদীর চর দখল করে বসবাসকারী ও মাছ চাষকারী মঞ্জু মোড়ল, জমাত আলী, সাহেব আলী, মোহাম্মদ আলী, হাফিজ, আসমতসহ কয়েকজন বাদশা সানার নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের ব্যবহৃত শ্মশানের ৩০ হাত সামনে মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে মাটির ভিত তৈরি শুরু করে। আপত্তি করায় শ্মশান অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে বলে তারা। একপর্য়ায়ে গত ১১ এপ্রিল শ্মশান কমিটির সভাপতি নিমাই মণ্ডল বাদি হয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয়পক্ষকে গত শনিবার থানায় ডাকেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য ডলি ইসলাম বিবাদীদের পক্ষ নিয়ে সময়ের আবেদন করলে সোমবার দিন ধার্য করা হয়।

স্থানীয় মলম বরেয়া গ্রামের সামছুর রহমান, আফজাল হোসেন, বিধান সরকারসহ কয়েকজন জানান, কাঁকশিয়ালী নদীর তীরে কয়েক’শত বিঘা খাস জমি রয়েছে। এর অধিকাংশ জমি ডিসিআর ছাড়াই বছরের পর দখল করে মাছ চাষ চলছে। অথচ দীর্ঘদিনের শ্মশানে ঢোকার প্রবেশ পধ দখল করে শ্মশানের জায়গায় মসজিদ বানানোর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির অপকৌশল। আগামি ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট ব্যাংক বাড়াতে স্থানীয় মহিলা সদস্য ডলি ইসলাম ও বাবুল আক্তার কাছারিবাড়ির খাল দখলকারি বাদশাহ সানার নির্দেশনায় ওই সাম্প্রদায়িক চক্রটিকে মসজিদ নির্মাণে মদত দিচ্ছে।

বাদশা সানা জানান, স্থানীয়রা মসজিদ তৈরি করতে চাইলে তিনি শ্মশানের নিকটবর্তী স্থানে করার ব্যাপারে বলেছিলেন। তবে শ্মশানের কোন সমস্যা হয় এমন কাজ করা যাবে না।

তারালী ইউপি’র সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ডলি ইসলাম সোমবার বিকেলে এ প্রতিবেদককে বলেন, শ্মশানের সামনে মসজিদ নির্মাণ না করার জন্য থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হুসেন তাদেরকে নিষেধ করেছেন। তাই স্থান পরিবর্তন করা হবে।

তারালী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট বলেন, যেখানে মসিজদের ভিত তৈরির কাজ চলছে সেটি সম্পূর্ণ শ্মশানের ব্যবহৃত পথ ও জায়গা। যেখানে মসজিদ নির্মান কাম্য হতে পারে না। কোন সাম্প্রদায়িক শক্তি এ কাজ করতে চাইলে তা প্রতিহত করা হবে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হুসেন বলেন, সোমবার দুপুরে উভয়পক্ষকে তার অফিসে ডাকার পর বাস্তবতা জেনে শ্মশানের সামনে নির্মাণাধীন মসজিদ তৈরি না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। এর ব্যত্তয় হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড -১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়ের বলেন, তাদের জমিতে অনুমতি ছাড়াই মসজিদ বানানো হচ্ছে এটা তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments