শ্যামনগরে বাড়ি, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর, আসামী আকবরের ছবি সংবলিত পোস্টার মেরে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি

 Posted on

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কদমতলা গ্রামে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দু’টি হিন্দু বাড়ি ও হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর, লুটপাটসহ ১১জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখমের ঘটনায় গত নয় দিনে দু’জন গ্রেপ্তার হয়েছে। হামলার নেতৃত্বদানকারী ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আকবর আলী পাড় ও তার শ্যালক আব্দুল আলীমসহ এজাহারভুক্ত ১০জন আসামী করোনা পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রয়েছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। উপরন্তু বুধবার বিকেলে আকবরের পক্ষের লোকজন হিন্দু পাড়ায় আকবরের ছবি সংবলিত পোস্টার মেরে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করতে হুমকি দিয়েছে।

নির্যাতিত গোবিন্দ বাউলিয়া জানান, তাদের গ্রামের আকবর আলী পাড়কে তিন বার ভোট দিলেও আগামী ইউপি নির্বাচনে পাশের গ্রামের হরিদাস হালদারকে ভোট দেবেন ও একই সঙ্গে প্রচার চালাবে বলে গ্রামের কয়েকজন হিন্দু অঙ্গীকার করে। এ নিয়ে আকবর পাড় তাদের উপর ক্ষুব্ধ ছিল। তাকে ও সুভাষসহ কয়েকজনকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেন আকবর আলী।

তিনি আরো জানান, কদমতলা গ্রামের ধনঞ্জয় মণ্ডলের মেয়ে ও মুন্সিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী পূজা মণ্ডলকে ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের একটি মাঠে উত্যক্ত করছিল ধানখালি গ্রামের রণজিৎ মৃধার ছেলে অমর মৃধা। এ সময় উপস্থিত ছিল তাদেরই গ্রামের পল্ল­ব মণ্ডল। পাড়ার মিলন বাউলিয়াসহ কয়েকজন যুবক এতে আপত্তি জানায় ও আগামীতে এ ধরনের কোন ঘটনা না ঘটানোর জন্য তাদেরকে সতর্ক করে।

গোবিন্দ বাউলিয়া আরো জানান, পল্ল­ব মণ্ডলকে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করে ১৩ এপ্রিল শীতলা পূজা শেষে মন্দিরের সামনে মেইন রোডে কালভার্টের উপর অবস্থান করা মিলন বাউলিয়াকে কয়েকটি মোটর সাইকেলে এসে মারপিট করে। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য আকবর পাড়কে অবহিত করা হয়। এরপরও আকবর পাড়, মুনসুর সরদারের গ্যারেজ ও ঈশ্বরীপুর এলাকার সন্ত্রাসী আলীম গাজী, আলীম মোড়লসহ ৭০/৮০ জন সন্ত্রাসী নারয় তকবীর, আাল্লাহ হু আকবর বলতে বলতে তাদের (গোবিন্দ) ও সুভাষ বাউলিয়ার বাড়ির বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে ফেলে। হামলাকারিরা তাদের দরজা ভেঙে ফেলে লুটপাট চালায়। সুভাষের মেয়ে মমতাকে খাটের তলা থেকে দু’টি বাচ্চাসহ টেনে হিঁচড়ে বের করে নিয়ে আসে। সম্ভ্রম হানি করা হয় ৮ম ও নবম শ্রেণীতে পড়–য়া দু’ মেয়েকে। বাড়ির উঠানে বিচালি দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করা হয়। সুভাষ বাউলিয়ার দু’টি বাই সাইকেল, ল্যাপটপ, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরে শীতলা মন্দির, শীতলা প্রতিমা ও রাসমনি মন্দির ভাঙচুর করে। পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয় তাকেসহ ১১জন নারী পুরুষ ও শিশুকে। প্রতিবাদে ১৪ এপ্রিল সকাল ১১টায় ফুলতলা মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন তিনি (গাবিন্দ) বাদি হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৬০/৭০ জনের নাম উল্লে­খ করে থানায় মামলা (২৫নং) করেন। ১৬ এপ্রিল মন্দির চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ এজাহারভুক্ত বংশীপুরের ইউসুফ আলী ও এজাহার বহির্ভুত জামায়াত আলী নামের দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আকবর আলীকে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীরা অনেকেই করোনা পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা মামলার বাদি ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকিও দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার বিকেলে আকবরের পক্ষে ১০/১২ জন মন্দির সংলগ্ন হিন্দু পাড়ায় আকবরের ছবি সংবলিত পোস্টার মেরে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক রিপন মল্লি­ক বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, এ মামলায় এ পর্যন্ত দু’জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হামলাকারীরা এলাকায় নেই। যদি এলাকায় কাউকে দেখা যায় তাহলে তাকে খবর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

Facebook Comments