চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ভারতের

 Posted on


দলিত কন্ঠ খেলা ডেস্ক
দুটোই লাল রঙের বাড়ি, হেঁটে গেলে দশ মিনিট। এক বাড়িতে টেনশন, পল পগবা দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিমানে উঠবেন কি-না? অন্যটিতে বিরাট কোহলি আজ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারবেন কি-না? ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড চত্বরে এই দুই ‘ওল্ড ট্র্যাফোর্ড’ ঘিরে এখন এই দুই বিষয়েই আলোচনা। তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই লাল রঙ নয়, বরং ম্যানচেস্টার সিটির আকাশি-নীল হতে চায় আজ ভারত। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের সোনালি অতীত নয়, বরং পেপ গার্দিওলার মতোই চতুর আর আধুনিক হতে চান বিরাট কোহলি। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সেমিফাইনালের ম্যাচের আগে কোনো ধরনের চাপ কিংবা দুর্বলতা উড়িয়ে দিয়ে কোহলির ঘোষণা- ‘আমি রোহিতের কাছ থেকে আরও দুটো সেঞ্চুরি চাই।’ অর্থাৎ কোহলি ধরেই নিয়েছেন, আজকের ম্যাচটি জিতে ফাইনাল খেলবে তার দল।
কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন সেখানে কিছুটা সাবধানী, ‘জানি, ম্যাচটি চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে আমরা সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। গত বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা আছে আমাদের। তা ছাড়া বিশ্বকাপের শেষ দিকে এসে কন্ডিশনও বদলে গেছে। সব মিলিয়ে আমরা প্রস্তুত।’ এমনিতে প্রথম পর্বে দু’দলের দেখা হয়নি। বৃষ্টির কারণে ওই ম্যাচটির পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিতে হয়েছিল। আবহাওয়া বুলেটিন বলছে, আজ ম্যানচেস্টারেও বৃষ্টি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। খেলা শুরুর সময়টায় বৃষ্টি থাকবে। সেক্ষেত্রে হয়তো টস শুরু হতে দেরি হতে পারে। তবে ম্যাচ পণ্ড হওয়ার মতো কোনো ব্যাপার হবে না। তা ছাড়া সেমিফাইনালে রিজার্ভ ডে রয়েছে। সুতরাং বৃষ্টি যে কোনোভাবেই বুড়ো আঙুল দেখাতে পারবে না, সেটা প্রায় নিশ্চিত। এই আসরে কোহলিরা এতটাই ধারাবাহিক যে, আট ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছেন তারা, তাও সেটা ইংল্যান্ডের সঙ্গে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে হারতে হারতে ম্যাচ বের করে নেয়। এবং শেষ তিনটি ম্যাচ তারা ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং পাকিস্তানের কাছে হেরে যায়। তবে বিশ্বকাপের দু’দলের মুখোমুখিতে এগিয়ে কিন্তু নিউজিল্যান্ড। সাত ম্যাচের চারটিতেই ভারতকে হারিয়েছে কিউইরা। অবশ্য এবারই প্রথম এই দুটি দল সেমিতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে; বিশ্বকাপে ২০০৩ সালের পর এই প্রথম। তবে এ বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৪-১ জিতেছিল ভারত। তাও আবার শেষ দুটি ম্যাচে কোহলিকে অবসর দিয়েছিল তারা।
কিউইদের অভিজ্ঞ ওপেনার মার্টিন গাপটিল সেভাবে ফর্মে নেই। রস টেলর, টম লাথাম আর অধিনায়ক উইলিয়ামসনকে নিয়ে তাদের মিডল অর্ডারও সেভাবে চাপের সময় দলের ইনিংস বের করে আনতে পারছেন না। তবে কিউই পেসারত্রয়ী লকি ফার্গুসন, ট্রেন্ট বোল্ট ও টিম সাউদি কিন্তু আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়াতে পারে ভারতীয় মিডল অর্ডারে। তা ছাড়া ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের পিচে হালকা ঘাসের উপস্থিতি রয়েছে। শুরুর দিকে কিউই পেসারদের সুইংগুলো সামলাতেই হবে ভারতকে।
তবে এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মা যা খেলছেন, তাতে করে তাদের মিডল অর্ডারের দুর্বলতাগুলো বাকিরা স্পর্শ করতে পারছেন না। এবারের বিশ্বকাপে মাত্র প্রথম পাওয়ার প্লেতে ৪ উইকেট হারিয়েছে ভারত। সেইসঙ্গে ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে ভারতের রান তোলার গড় ৪ দশমিক ৬৫। যেখানে পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে রান তোলার গড় ৪ দশমিক ৯৩। আসরে ৬৪৭ রান করে রোহিত শর্মা ফুটবলের শহরে এসে যেন শচীনের মতো সম্মান পাচ্ছেন। গতকাল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের গেটের সামনে কিছু ভারতীয় রোহিতের ছবি নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। রোহিতের কারণেই ভারতের মিডল অর্ডারে কোহলি, ঋষভ পান্ত, হার্দিক পান্ডিয়া আর মহেন্দ্র সিং ধোনির পারফরম্যান্স সেভাবে চোখে পড়ছে না। তাই আজ রোহিত শর্মা শুরুর দিকে আউট হয়ে গেলে দারুণ এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে ভারত। গতবার সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গিয়েছিল ভারত। সেদিন সিডনির গ্যালারিতে আনুশকা শর্মার উপস্থিতিতে কথা শুনতে হয়েছিল বিরাটকে। প্রেসবক্সের ভারতীয় সাংবাদিকরা আলাদা রিপোর্ট করছেন এই শিরোনামে যে- আজও গ্যালারিতে থাকবেন আনুশকা। তবে কোহলির ওপর ভারতীয় মিডিয়ার বিরাগ কিছুটা যেন কমেছে; যা পড়েছে গিয়ে ধোনির ওপর।
আজ যদি ভারত হেরে যায় তাহলে এটাই হবে ধোনির বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ। কেউ কেউ বলছে, তার শেষ ওয়ানডেও হতে পারে এটা। আট ম্যাচে ২২৩ রান করেছেন ধোনি, স্ট্রাইক রেট নব্বইয়ের ঘরে। কিন্তু শেষ দিকে এসে তার কাছ থেকে দল স্লগ ব্যাটিং চাইছে, সেটা কেন জানি দিতে পারছেন না ধোনি। তবে এ মুহূর্তে কোহলির সবচেয়ে বড় স্বস্তি বোধহয় তার পেস বোলিং অ্যাটাক নিয়ে। জাসপ্রিত বুমরাহ- যাকে ওয়াসিম আকরামদের মতো কেউ কেউ বলছেন পুরনো বলের মাস্টার তিনি। সেইসঙ্গে মোহাম্মদ শামি আর ভুবনেশ্বর কুমার। সব মিলিয়ে কোহলিকে স্বস্তি দেওয়ার মতো অনেক অস্ত্র মজুদ রয়েছে। গতকালও সংবাদ সম্মেলনে এসে কোহলিকে ধোনির হয়ে অনেক ভালো ভালো কথাই বলতে হলো। লোকেশ রাহুল, রোহিত শর্মাসহ নিজের স্পেশাল পারফরম্যান্স নিয়েও মিনিট পনেরো বক্তৃতা দিতে হলো। গোটা সংবাদ সম্মেলনে শুধু নিউজিল্যান্ডের এক সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হাসি যেন কিছুটা মলিন হয়ে গিয়েছিল কোহলির। ‘সবাই বলছে ভারতই ফেভারিট। কিন্তু কাল যদি আপনারা হেরে যান নিউজিল্যান্ডের কাছে, তাহলে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত আছেন তো?’ প্রশ্নকর্তার দিকে তাকিয়ে কোহলির উত্তর ছিল- ‘আমরা গত কয়েক বছর ধরে এমন চাপের মধ্যেই খেলে আসছি। তাই চাপ সামলে কীভাবে ম্যাচ বের করে নিতে হয়, সেটাতে অভ্যস্ত আমরা।’

Facebook Comments