সিরাজদিখানে শারির উদ্যোগে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন উৎসব অনুষ্ঠিত

 Posted on

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শারির উদ্যোগে ২৯ নভেম্বর উপজেলার কাননীসার মুনিপাড়ায় এই অনুষ্ঠানে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রার শ্রী শ্যামল গোস্বামী। এসময় উপস্থিত ছিলেন শারির অ্যাডভোকেসি কোঅর্ডিনেটর রঞ্জন বকসী নুপু, প্রোগ্রাম অফিসার নিরঞ্জন দাস, পবিত্র মন্ডল, স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান লক্ষ্মণ মুনিদাস, ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল কুদ্দুস মোল্লা, শিক্ষক সাবিতা রানি দাসসহ স্থানীয় পঞ্চায়েত ও ছায়া পঞ্চায়েত প্রতিনিধিবৃন্দ।

এ সময় বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের গুরুত্ব প্রসঙ্গে শারির অ্যাডভোকেসি কোঅর্ডিনেটর রঞ্জন বকসী নুপু বলেন, হিন্দু বিবাহের রেজিস্ট্রেশনের কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকায় হিন্দু সমাজে বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। যার ফলে কিছু কিছু পারিবারিক সমস্যা অনেক সময় জটিল আকার ধারণ করে। এসব সমস্যা সমাধানের বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের বিধিমালা প্রণয়ন করেছেন। বর্তমানের এই বিধিমালা অনুসরণের ফলে বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন থাকলে তার অনেক সুফল পাওয়া যাচ্ছে। যেহেতু বিয়ের লিখিত প্রমাণ হচ্ছে রেজিস্ট্রেশন তাই বিয়ে সংক্রান্ত যে কোন সমস্যায় এর প্রয়োজন হয়। এর মধ্যদিয়ে বিয়ের পক্ষদ্বয় বিয়ে অস্বীকার করতে পারেনা এবং পরস্পর পরস্পরের প্রতি কিছু দায়-দায়িত্ব পালনে বাধ্য হয়। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে বা স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে বিয়ে করলে বা করার উদ্যোগ নিলে স্ত্রী আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। এছাড়া বর্তমানে হিন্দু নারী বিশেষত বিধবাদের স্বামীর সম্পত্তি লাভের বিষয়টি আদালত কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছে। সে কারণে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকার হতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অনেকাংশে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিবাহের কোন সুযোগ থাকেনা। এ ছাড়া আরও অনেক সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে এই রেজিস্ট্রেশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

বিবাহ রেজিস্ট্রেশন অনুষ্ঠানের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন শারি পরিচালিত শিক্ষা সহায়তা কেন্দ্রের শিক্ষক সাবিতা রানি দাস।

Facebook Comments