সারা দেশে ধর্ষন ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরা সেবা সংসদের মানববন্ধন

 Posted on

\ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি \
সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীকে আটক রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। নোয়াখালির বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশিয়া ইউনিয়নের খালপার গ্রামে ধর্ষণের ভিডি চিত্র ধারণ করে এক বছর ধরে তাকে গণধর্ষণে বাধ্য করা হয়েছে। এরপর দাবিকৃত টাকা না পেয়ে উপর্যুপরি তাকে গত ২ সেপ্টেম্বর উলঙ্গ করে নির্যাতন করা হয়েছে। ধর্ষকদের ভয়ে তিনি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। একইভাবে খাগড়াছড়িতে প্রতিবন্ধি কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সাভারে কু’প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় স্কুল ছাত্রীকে রিক্সা থেকে নামিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে পাগলীর বাচ্চা হলেও কে এ জন্য দায়ী প্রশাসন তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। সর্বোপরি কালিগঞ্জে নবজাতককে বাজারের ব্যাগে ঝুলিয়ে শ্মশানঘাটের পাশে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হলেও পুলিশ ওই নবজাতকের মায়ের পরিচয় জানতে পারেনি। তবে ওই সুশ্রী নবজাতককে ঢাক ঢোল পিটিয়ে ৩০ লাখ টাকা এফডিআর ও ৫০ শতক জমি লিখে দিয়ে দত্তক দেওয়ার ব্যাপারে প্রশাসনের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
শুক্রবার সকাল ৯ টায় স্বে”চ্ছাসেবী সংগঠণ সেবা সংসদের উদ্যোগে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাবুলিয়া বাজাওে মানববন্ধন কর্মসুচি পালনকালে সকল ধরণের নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ সম্পর্কিত এক মানববন্ধন কর্মসুচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন সীমান্ত আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক এসএম রজব আলী, প্রভাষক মইনুল ইসলাম,বাবুলিযা বাজার কমিটির সভাপতি শওকত আলী, আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ শামসুর রহমান, এডভোকেট খগেন ঘোষ, সেবা সংসদের আহবায়ক সারাই মোঃ কাওছার আলী, পায়রাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার সাহা, বাবুলিয়া জেএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রমেশ চন্দ্র ঘোষ, ডাক্তার ইসরাইল হোসেন, মোঃ মহিবুল্লহা, ডাক্তার শাহিনুজ্জামান প্রমুখ।
বক্তারা আরো বলেন,প্রতিদিন টেলিভিশন ও পত্রিকা খুললেই দেখা যাচ্ছে ধর্ষিত হওয়া শিশু থেকে বৃদ্ধা পর্যন্ত সামগ্রিক চিত্র। ধর্ষিতাকে ধর্ষকদের ইচ্ছা মত ব্যবহার করতে ধর্ষণের ছবি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে। ধর্ষকদের ডাকে সাড়া না দিলে ওই ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। একদিকে লোকলজ্জা, অপরদিকে বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা তাদেরকে কুরে কুরে খাচ্ছে। কেউ কেউ ছাড়ছেন এলাকাও। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এতটাই প্রভাবশালী যে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে কেউ সাহস করছে না। থানায় বা আদালতে মামলা করলে জীবনে বেঁচে থাকা মুশকিল। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার মত ঘটনা বেড়ে চলেছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে দলীয় পরিচয়ের উর্দ্ধে থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দ্রæত বিচার আইনে দৃষ্টান্তমূলতক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের পক্ষে কোন আইনজীবী অংশ না নেয় সেজন্য জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মাষ্টার জুলফিকার আলী।

Facebook Comments