সাতক্ষীরায় হামলাকারিদের দায়েরকৃত মামলা আগে নিয়ে পরে নির্যাতিতদের মামলা নিলেন সদর থানার ওসি

 Posted on

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা
২০০৯ সালে জমি কিনে তৈরি করা রান্না ঘর, গোয়ালঘর ও বাথারুম ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে বক্স পাড়ের ছেলে শরিফুলের নেতৃত্বাধীন ভাড়াটিয়া সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। বাধা দেওয়ায় তাদের পাঁচজনকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। পরে সন্ত্রাসীরা ওই জমিতে ঘর বেঁধে ও কাটা তারের বেড়া দিয়ে দখলে নিয়েছে। পুলিশ হামলাকারিদের পক্ষ নেওয়ায় শনিবার সকাল থেকে তারা আবারো ঘর বানানোর কাজ শুরু করেছে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে নির্যাতিতদের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়ি ফিরতে পারছে না।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভাড়–খালি গ্রামে গেলে আবেদার রহমানের স্ত্রী আয়েশা খাতুন, মুজিবর রহমানের স্ত্রী আরিফা খ্তাুন, আবেদার রহমানের স্ত্রী আফরোজা খাতুন, তাদের প্রতিবেশী আব্দুল মজিদ, লুৎফর রহমান ও আব্দুল গফফার সহ কয়েকজন এসব কথা বলেন।
তারা জানান, শুক্রবার জুম্মার নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন নিয়ামদ্দিন সরদারের পরিবারের পুরুষ সদস্য। এ সময় শরিফুলের নেতৃত্বে মধু, সোহাগ, রজব আলী ও মেজবাহউদ্দিনসহ ৩০/৩৫ জন হাতে দা, লাঠি, শাবল ইত্যাদি নিয়ে তাদের জমি দখল করতে আসে। বাধা দেওয়ায় তাদের পাঁচজনকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরে জমি কাটা তারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলে হামলাকারিরা। পাল্টা মামলা দিতে শরিফুলসহ কয়েকজন কৃত্রিম রোগী সেজে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ওই জমি নিয়ে আদালতে দায়েরকৃত মামলার আগামি পহেলা জুলাই তদন্ত আছে। তাই তদন্তকালে জমি তহশীলদারকে দখল দেখানোর জন্য আগেভাগেই সন্ত্রাসীদের নিয়ে জমি দখল করা হয়েছে।
শনিবার সকালে সরেজমিনে জবরদখলকৃত জমিতে গেলে বানানো নতুন ঘরে শুয়ে ছিলেন শরিফুলের নানী রহিলা বেগম ও শরিফুলের মা ছালেহা খাতুন। এ সময় কয়েকজন যুবক নতুন করে ঘর বানানোর জন্য বাঁশ খুঁটি ইত্যাদি নিয়ে আসেন। মামলাবাজ রহিলা বেগম জোরে সোরে বলেন, নিয়ামউদ্দিনের ছেলেরা তাদের জমি দখলে রেখেছিল। আদালতে মামলা রয়েছে। নোটিশ পেয়েছি। নায়েব বলেছে দখলে নাও। তাই আমরা দখলে নিয়েছি। ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন নিয়ামুদ্দিনের ছেলেদের পক্ষ নিয়েছে। ফলে তারা ও এমপি সাহেবের কাছে গিয়েছেন। দখলের সময় উভয়পক্ষের মারামারিতে তাদেরও চারজন আহত হয়েছে।


এদিকে আবেদার রহমানের অভিযোগ, ভাড়–খালিতে জমি জবরদখলের ঘটনায় সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জবরদখলকারি ও হামলাকারি শরিফুলের দায়েরকৃত মামলাটি শুক্রবার রাতেই আগে রেকর্ড করে (৬৭নং) জবরদখলকারিদের হাতকে শক্ত করেছেন। যাদের বাড়িতে এসে ভাঙচুর, লুটপাট ও মারপিট করে গেল তাদের দায়েরকৃত মামলা(৬৯নং) পরে রেকর্ড করা হলো। এতে প্রমাণিত হয় যে পুলিশ হামলাকারিদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। আবেদার রহমান আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, যদি প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান আহত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হামলাকারি মনিরুজ্জামান তুহিনের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা নিতে পারেন সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে হামলাকারিদের দেওয়া মিথ্যা মামলা রেকর্ড হলে দূঃখ কোথায়? এরকম না হলে সদর থানার ওসি এ জেলায় ১১ বারের শ্রেষ্ঠ ওসি হতে পারবেন কি করে?
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে হামলাকারিদের পক্ষ নেওয়া ও কোন প্রকার অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শরিফুলের অভিযোগটি আগে পাওয়ায় তার মামলা আগে রেকর্ড হয়েছে। পরে মুজিবর রহমানের মামলা রেকর্ড হয়েছে। শরিফুলের দায়েরকৃত মামলা উপপরিদর্শক মহসিন আলী তরফদারকে ও মুজিবরের মামলা উপপরিদর্শক নজরুল ইসল্মাকে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments