সাতক্ষীরায় কাঁকড়া ধরা নিয়ে বিরোধ এক অন্তঃস্বত্বা গৃহবধুসহ জখম ছয়, গ্রেপ্তার-২

 Posted on

 

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা
একটি কাঁকড়া ধরাকে কেন্দ্র করে হামলায় ছয় মাসের এক অন্তঃস্বত্বা গৃহবধুসহ ছয়জন জখম হয়েছেন। তাদেরকে আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে হামলার তিনদিন পর ছয় মাসের অন্তঃস্বত্বা গৃহবধু সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সন্তান প্রসব করেছে। সন্তানটি মুমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের বিরুদ্ধে আহত গৃহবধুকে চিকিৎসা সেবায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
আহতরা হলেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের রাধারহাট গ্রামের আব্দুল্লাহ মল্লিকের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (৩২), তাদের ছেলে রাহাতুল্লাহ, রাসেল, ইয়ামিন, আব্দুল্লাহ মল্লিকের ভাই গোলাম রসুল, তার স্ত্রী ফিরোজা খাতুন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মোক্তার হোসেন ও সবুজ হোসেন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ৫নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ফাতেমা খাতুন জানান, তাদের গ্রামের খোকন মল্লিকের চিংড়ি ঘেরের বেড়িবাঁধের পাশে একটি কাঁকড়া ধরতে যেয়ে ব্যর্থ হয় তাদের প্রতিবেশি সবুজ হোসেন। শুক্রবার সকালে একইভাবে কাঁকড়াটি আবারো পূর্বের স্থানে দেখতে পেয়ে তার ছেলে রাহাতুল্লাহ ঘের মালিককে অবহিত করে। এ সময় বৃহষ্পতিবার সবুজ ওই কাঁকড়া ধরার চেষ্টা করে বলে মালিককে অবহিত করে রাহাতুল্লাহ। খোকন মল্লিক তার ঘেরে কাঁকড়া না ধরার জন্য সবুজকে সতর্ক করে। এতে ক্ষুব্ধ সবুজ, মোক্তার, আক্তার, আইয়ুব ও আমিরুল শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের বাড়ির পাশে একা পেয়ে রাহাতুল্লাহকে শাবল দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়ে ব্যাপক নির্যাতন চালায়। মা ছয় মাসের অন্তঃস্বত্বা ফতেমা খবর পেয়ে রাহাতুল্লাহকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তাকে এলোপাতাড়ি লাথি, কিল, চড় ও ঘুষি মারার পর শাবল দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে ভাইপোদের মারপিটের কথা জানতে গেলে বাজার থেকে ফেরার পথে গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রী ফিরোজা খাতুনকে পিটিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয়রা ফিরোজাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ও অন্য পাঁচজনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
আব্দুল্লাহ মল্লিকের অভিযোগ, তার স্ত্রী ফতেমার অবস্থা খারাপ হওয়ায় বার বার সেবিকাদের কাছে গেলে তারা বিরক্ত হন। এক পর্যায়ে রোববার সকালে ফতেমাকে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ছাড়পত্র না দিয়ে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য অনুরোধ করা হয়। তাতেও কর্ণপাত না করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে ছাড়পত্র প্রত্যাহার করে ডাঃ কানিজ ফতেমার কাছে রোগীকে নিয়ে যেয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। সোমবার বিকেল তিনটার দিকে রোগীর পেটে অসহ্য যন্ত্রণার কথা বললে কোন নার্স এগিয়ে আসেনি। একপর্যায়ে বিকেল চারটার দিকে পাশের শয্যার এক রোগীর আত্মীয়ের সহায়তায় ফতেমার অপুষ্ট সন্তান প্রসব হয়। তবে ছয় মাসের বাচ্চাটি বাঁচবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ হাফিজুল্লাহ বলেন, সেবিকা ও ডাক্তারের অবহেলা নিয়ে তাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, হামলার ঘটনায় গোলাম মোস্তফা বাদি হয়ে শনিবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মোক্তার ও সবজুকে গ্রেপ্তার করে রোববার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

Facebook Comments