সংখ্যালঘু ছাত্রী ধর্ষিতা \ অবশেষে উজিরপুর থানায় মামলা \ ধর্ষক গ্রেপ্তাওে প্রচেষ্টাপ অব্যাহত

 Posted on


\ কল্যাণ কুমার চন্দ, উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি \
পাঁচ মাসের অন্তঃসত্তা ধর্ষিত হতদরিদ্র হিন্দু ছাত্রী বহু হুমকী থামকী ভয় ভিতি উপেক্ষা করে অবশেষে উজিরপুর থানায় মামলা দায়ের করতে সক্ষম হয়েছে।
১৩ অক্টোবর রাতে মামলাটি এজাহার হিসাবে গন্য করে থানা পুলিশ ১৪ অক্টোবর সকালে ওই ছাত্রীকে ডাক্তারী পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ান ষ্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ওসিসিতে প্রেরন করেছে৷ মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার উজিরপুর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের দক্ষিন মাদার্শী গ্রামের বাসিন্দা হতদরিদ্র দিনমজুর সঞ্জয় কুমার মন্ডলের এসএসসি পাস করা কন্যাকে গত ২৫ মে রাতে তার বাবা মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রতিবেশি মোঃ বাবুল হাওলাদারের বখাটে ও নেশাখোর ছেলে মোঃ স্বপন হাওলাদার (২০) ওই ছাত্রীর ঘরে ঢুকে জোর পুর্বক হত্যার হুমকী দিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় তার আরো সহযোগীরাও বাইরে ছিলো। মানসম্মান ও হত্যার ভয়ে ওই ছাত্রী কাউকে কিছু না বললেও আস্তে ধীরে সে গর্ভবতী হয়ে পরে। দিন গড়াতে থাকলেও বিষয়টি ছাত্রী কখনোই বুঝে উঠতে পারে নাই। হঠাৎ করে সে গত ১০ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে পরলে তার শারীরিক পরিবর্তন সহ নানা অসঙ্গতি তার মায়ের কাছে ধরা পরলে ছাত্রী তার মায়ের জিজ্ঞাসাবাদে আসল ঘটনা খুলে বলে। এর পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে তার পিতা সঞ্জয় কুমার মন্ডল স্থানীয় লোকজন পৌর সভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসিম ঘড়ামি, নারী কাউন্সিলর সুরাইয়া আক্তার বীনা সহ ধর্ষক মোঃ স্বপন হাওলাদারের পিতা মোঃ বাবুল হাওলাদারকে অবহিত করেন। ঘটনাটি কেউই আমলে না নিয়ে উল্টো ধর্ষিতা ছাত্রীর পরিবারকে সকলে তিরস্কার করে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকী দেয়। সেই সাথে ঘটনা জানাজানি হলে ধর্ষক স্বপন হাওলাদার ও তার পিতা মোঃ বাবুল হাওলাদার বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এর দুই দিন পরে ১২ অক্টোবর রাতে উজিরপুর উপজেলা মাইনরিটি রাইটস ফোরামের সাধারন সম্পাদক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মি কল্যান কুমার চন্দ বিষয়টি জানতে পেরে ওই রাতেই ধর্ষিতার বাড়ি গিয়ে তার পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং তাদেরকে থানায় এনে মামলা দায়েরের কাজে সহযোগিতা করেন। এছাড়া তাকে আরো সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এ্যাডভোকেট ও হিউম্যান রাইটস ফর এভরি ওয়ান এর জেনারেল সেক্রেটারী মানবাধিকার কর্মী প্রিয়ঞ্জন রায়, হিউম্যান রাইটস ফর এভরি ওয়ানের সহ সভাপতি সুখময় চৌধুরী বাবু ও এ্যাডভোকেট প্রভাষ তন্ত্রী।
মামলাটি রেকর্ড হওয়ার পরে ১৪ অক্টোবর সকালে তদন্ত কর্মকর্তা এস আই রবিউল ঘটনাস্থল ভিজিট করেন এবং আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেন। এছাড়া আসামীকে গ্রেফতারের জন্য র‌্যাব-৮ এর একটি দলও প্রানপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে উজিরপুর মডেল থানার ওসি তদন্ত মোঃ মাহাবুবুর রহমান বলেছেন, আসামীকে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে এবং ধর্ষিতার ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে পুলিশের সার্বক্ষনিক সহযোগিতা থাকবে। তবে ধর্ষিতা ছাত্রীর পিতা সঞ্জয় কুমার মন্ডল অভিযোগ করে বলেছেন, তাকে মামলা মকর্দ্দমা না করে একটি মহল মেয়ে নিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে৷ এ কারনে তিনি কিছুটা আতংকের মধ্যে রয়েছেন৷

Facebook Comments