যশোরের জগহাটির ১০৪ জেলে পরিবারের কেউ পায়নি প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা

 Posted on

এইচ আর তুহিন, যশোর ::
করোনার কারণে সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে এককালীন আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়ার জন্য এক হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ছাড় করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ১১ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের দুই শাখা থেকে এ অর্থ ছাড় করা হয়। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে বলা হয়। তবে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের ১০৪টি জেলে পরিবারের একজনও এ সহায়তা পাননি। জেলে পল্লীর ১০ জনের জাতীয় পরিচয়পত্র ২৫০০ টাকার সহায়তা দেয়া হবে বলে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিলেও তারা পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে দেয়ার জন্য ১ হাজার ২৫৭ কোটি অর্থমন্ত্রণালয় থেকে ছাড় করা হয়। এ কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেখভাল করা হয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুকূলে অর্থ বিভাগ এ টাকা ছাড় করে। অর্থ বিভাগের বাজেট-১ শাখা থেকে ছাড় করা হয় ৬২৭ কোটি টাকা, আর বাজেট-৩ শাখা থেকে ছাড় করা হয়েছে ৬৩০ কোটি টাকা। এসব টাকা সুবিধাভোগীদের মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর জন্য সার্ভিস চার্জ বাবদ ছাড় করা হয় আরও সাত কোটি টাকা।
সূত্রে আরও জানা গেছে, উদ্যোগটির সঙ্গে জড়িত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। আর পরিবার চিহ্নিত করা হয়েছে স্থানীয় সরকার অর্থাৎ জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের সাহায্যে। তালিকায় রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, দোকানের কর্মচারী, ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসায় কর্মরত শ্রমিক, পোলট্রি খামারের শ্রমিক, বাস-ট্রাকসহ পরিবহন শ্রমিক, হকারসহ নানা পেশার মানুষকে রাখা হয়েছে। অথচ যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের ১০৪টি জেলে পরিবারের প্রায় ৫৫০ মানুষের একজনও এ সহায়তা পাননি।
ওই পল্লীর বাসিন্দা স¤্র তরফদার জানান, দেড় মাস আগে এলাকায় চেয়ারম্যান মুন্না ভাই আসলে ১০ জনের এনআইডি কার্ড এর ফটোকপি ও এক কপি ছবি দিতে বলেন। তার কথা মতো সেগুলো জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনও টাকার খোঁজ নেই।
আর এক বাসিন্দা দেবো কান্ত বলেন, আমরা এখন মাছ ধরে টাকা আয় করতে পারি না তেমন। অন্য কাজও করি। কিন্তু করোনার জন্য অন্য কাজও নেই তেমন। খুব অভাবে আছি। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর ২৫০০ টাকার উপহার পেলাম না।
এ ব্যাপারে স্থানীয় মেম্বর গিয়াস উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমি নিজেই জানিনা। চেয়ারম্যান তার পছন্দমত মানুষকে তালিকাভুক্ত করে। আমার কাছ থেকে তালিকা নেয় না। আমি যতদুর জানি জেলে পল্লীর কেউ ২৫০০ টাকার সহায়তা পায়নি।
স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্না জানান, আমার ইউনিয়নে ১০০০ জনের তালিকা দিয়েছি। এরমধ্যে ৪০০ জন টাকা পেয়েছে। আরও ৬০০ জন বাদ আছে। জগহাটি গ্রামের জেলে পল্লী থেকে ১০/১২ জনের এনআইডি নিয়েছিলাম। তাদের টাকা এখনও আসেনি। আর একটি সমস্যাও আছে। তা হচ্ছে- যে মোবাইল নম্বর তালিকায় দেয়া হয়েছে ওই নম্বর যদি একই এনআইডি দিয়ে না তোলা হয়, তাহলে সে টাকা পাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, পরিবারগুলোকে টাকা দেয়া হয় মূলত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে। এর মধ্যে রয়েছে বিকাশ, রকেট, নগদ এবং শিওরক্যাশ। অর্থাৎ নগদ সহায়তা হলেও কাউকে নগদে টাকা দেয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে এমএফএসে বড় আকারের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। টাকা পৌঁছানোর জন্য এমএফএসগুলো পাবে প্রতি হাজারে মাত্র ছয় টাকা। হাজারে ছয় টাকা হিসাবেই পৌঁছানোর মোট খরচ দাঁড়ায় সাড়ে সাত কোটি টাকা। এ টাকা সরকার বহন করবে। পরিবারগুলোর কোনো টাকা দিতে হবে না। এ কারণে খরচের জন্য আলাদাভাবে সাত কোটি টাকা ছাড় করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

Facebook Comments