বেঁচে আছি এইতো বেশ

 Posted on

বিধান সরকার, বরিশাল, অতিথি প্রতিবেদক॥ বাড়িতে বৃদ্ধা মা আমার। ছোট ছোট সন্তানেরা। ভেসে উঠল অসহায় স্ত্রী’র মুখখানি। কাঁদলাম কতক্ষণ। দেখতে থাকলাম, চোখের সামনেই গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে ধৃত সঙ্গীয়দের। নিথর হয়ে গেল যেন দেহ। চারদিকে ঘোর অন্ধকার। বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়ে এক সময় ত্যাগ করলাম জগৎ সংসারের মায়া। ডাকতে থাকলাম জগদীশ্বরকে। তারপরও সন্তানদের কচি কচি মুখগুলো যেন, বার বার ঘুরে ফিরে আসে আমার ভাবনার চারপাশে। ঘন্টা ধরে নারকীয় হত্যা যজ্ঞের সর্বশেষ ১১ নম্বরে, আমার পালা। তীরে পড়ে থাকা নিহত তরুনের লাশ খালে নামানোর নির্দেশ আসে। অমনি সময়ে গুলি ছুড়লে কৌশলে খালে পড়ে দেই ডুব। ওপাড়ে গিয়ে ওঠলে ফের গুলি। বাম বাহুতে লেগে মনে হয়েছিল হাত যেন ছিড়ে গেল। এরপর টানা ছয়টি ঘন্টা পানিতে থেকে, নদী-খাল সাঁতরায়ে ওদিন আরো দু’বার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে, তবেই পঙ্গুত্ব নিয়ে আজো বেঁচে থাকা। সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতির গতিপথ উল্টো বলে চাহিদার স্বপ্ন ধূসর হয়ে আসায়, তার আক্ষেপ ‌‘বেঁচে আছি এইতো বেশ’। এযাবৎ বর্ণনার ‘আমি’ হলেন, বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের বাগদিয়া গ্রামের শ্রী অমূল্য চন্দ্র পাল (৯৬)। যিনি ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক সেনাদের দ্বারা একযোগে সাড়ে তিন শতাধিক ব্যক্তিকে, নির্মম ভাবে হত্যা কালে বেঁচে যাওয়া দু’জনার একজন।

বাংলা ৩০ বৈশাখ, ১৪ মে’১৯৭১। দিনটি ছিল শুক্রবার। সকাল ৮ টা হবে বৈকি। এর আগের দিন বলতে বৃহস্পতিবার কুখ্যাত মুসলিমলীগ সমর্থক প্রিন্সিপ্যাল ইসাহাকের চ্যালা-চামুন্ডা, বেবাজ গ্রামের বক্স পাড়ার লতিফ বক্স, কালু বক্স, বাগদিয়ার বারেক মোল্লা, মধু তালুকদাররা কলসকাঠীর হিন্দু অধ্যুষিত পাল পাড়া, সাহা পাড়া, কর্মকার পাড়ায় বলে বেড়ায়- রোজ রোজ পালিয়ে থেকে কি লাভ? মিলিটারী যদি আসে তো, প্রথমে বাজারে আসবে। গুলির শব্দ বা পুল পেড়িয়ে আসার আগেই খবর পৌঁছে গেলে, তখন না হয় বাড়ির পেছনের জঙ্গলে গিয়ে পালাতে পারবে অনায়াসে। এর আগে প্রতিদিন পাড়ার হিন্দুরা ভোর রাতে উঠে সন্তান,স্বজনদের নিয়ে দূর গ্রাম ডাপরকাঠী, বাগদিয়ার মুসলিম এলাকায় পালিয়ে থাকতেন। আবার সন্ধ্যে হলে তবেই ফিরতেন। কাজ নেই, কর্ম নেই; আয় রোজগার নেই। মরিচ ভাত খেয়ে অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে দিয়েই দিন কেটেছে তখন। তবে ইসাহাক মিয়ার চ্যালাদের কথা অনুযায়ী যারাই থেকেছেন, তারাই মারা পড়েছেন বলে জানালেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অরুন কুমার দাস খোকন। পাক সেনা আক্রমনের আগে কলসকাঠী সাব পোষ্ট অফিসের পোষ্ট মাষ্টার রোজারিও ডি গোমেজ, কারো মতে একদিন আগে খবর জানায়েছিলেন নির্ভরযোগ্য জনা কয়েক ব্যক্তির কাছে। সে যুক্তি অবশ্য কেউবা খন্ডন করে বললেন, পাক গোয়েন্দা সংস্থা এত বোকা ছিলনা যে, তাদের অপারেশনের খবর আগাম পেয়ে যাবে কেউবা। তবে হ্যাঁ, গোমেজ খবর দিয়েছিলেন বটে, তা পাক সেনাদের আক্রমণের খানিকটা আগে। তখন আর কেউ নিরাপদ স্থানে যাবার সময় পাননি। প্রত্যেক বাড়ির পেছনেই ছোট বড় জঙ্গল ছিল। আশ্রয় বলতে সেখানেই স্ত্রী, পুত্র, পরিবার নিয়ে পালিয়ে থাকলেন। বাগদিয়ার অমূল্য চন্দ্র পালও তাই করলেন। তাদের হিসেব ছিল, প্রথমে আক্রমণ হবে বাজারে। গুলির শব্দ শুনতে পেলেই তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটবেন পূবদিকের মুসলমান অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে। তা আর হলো কই। অসহায় মানুষগুলোর এই হিসেব পাল্টে দেয় পাক সেনাদের দোসর ইসাহাক রাজাকারের সমর্থকরা। আউলিয়াপুরের গোলাম মোস্তফা জানালেন, ১৪ মে সকালে তুলাতলী নদী পথে সাহেবগঞ্জ লঞ্চঘাট পেড়িয়ে ৩ খানা গানবোট, কলসকাঠীর পাড়ে বলতে পশ্চিম সীমানায় নোঙ্গর করে। আর পান্ডব নদী হয়ে কলসকাঠীর পূব সীমানা আঙ্গারীয়া নামক স্থানে ভিড়ে ২টি গান বোট। তার বর্ণনা মতে দু’শতাধিক পাক সেনা অংশ নিয়েছিল কলসকাঠীর অবর্ণনীয় হত্যাকান্ডে। এখানের আওয়ামীলীগ সভাপতি আবদুস ছালাম মাষ্টার তখন শিক্ষকতা করতেন কলসকাঠীর বরদাকান্ত-মুক্তাকেশী (বিএম) একাডেমিতে। তিনি বলেন, পাক গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা ছিল হিন্দুরাই পাকিস্তান ভাঙ্গার জন্য যুদ্ধ করছেন। তাই পাক সেনারা মফস্বলে হিন্দুদের হত্যা ও মুসলমানদের রেহাই দিয়েছে শেল্টার পাওয়া জন্য। এই হিসেব অনুযায়ী কলসকাঠীর হত্যাকান্ডে কেবল হিন্দুদের মেরেছে। মুসলমান মারা যায়নি একজনও। আগুন লাগিয়েছে হিন্দু পাড়াতে। প্রথমে এসেই হত্যা করে খিরোদ চন্দকে। তিনি পাক সেনা দেখে খেই হারিয়ে লাফিয়ে ওঠে চিৎকার করে, বর্বরদের আগমনের খবর জানান দিচ্ছিলেন এলাকাবাসীকে। অমনি সময়ে তাকে গুলি করে হত্যা করা। এরপর একযোগে তুলাতলী নদীর খেয়াঘাটে, জমিদার বাড়ির সম্মুখে বর্তমানে যেখানে করা হয়েছে শহীদের উদ্দেশ্য স্মৃতি ফলক সেখানে এবং বাজারের খালের পাড়, এই তিন স্থানে পাকসেনারা চালায় মানুষ নিধন যজ্ঞ। সকাল ৮ টায় শুরু হওয়া হত্যাকান্ড চলে বিকেল ৫টা অবধি। তখন পাকসেনারা কলসকাঠী ছেড়ে বরিশালের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়। আবদুস ছালামের মতে এই বর্বর ঘটনায় সাড়ে তিন থেকে চার’শ পাকসেনা অংশ নিয়েছিল। যাইহোক এখন আবার ফিরি বিভিষিকাময় মৃত্যুর হাত থেকে কেমন করে বেঁচে আছেন অমূল্য চন্দ্র পাল সেই বর্ণনায়।

সামনে থেকে আক্রমণ চালালে পিছন বলতে পূব দিক দিয়ে, নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারবেন। এই হিসেব করে অন্যদের ন্যায় বড়ির পিছনের জঙ্গলে, পরিবার সমেত পালিয়ে ছিলেন অমূল্য পাল। দেশীয় রাজাকারদের সহায়তায় স্কুলের উত্তর পাশের ব্রীজ পেড়িয়ে পাক সেনারা দু’ভাগে ভাগ হয়। সামনে পিছনে উভয় দিক থেকে তাদেরকে ঘিরে ফেলে। পালবার কোন পথ ছিলনা। তাদের পাল পাড়া থেকে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ৫০ থেকে ৬০ জনকে ধরে নিয়ে আসে। নারী ও শিশুদের রাখা হয় বিএম একাডেমী ভবনের একটি রুমে। আর পুরুষদের রাখা হয় চাউলের হাটখোলায়। অমূল্য পাল সমেত ১১ জন বসে আছেন। রাজ্যের চিন্তা এসে জড়ো হয় যখন তার চোখের সামনে থেকে একজন একজন করে উঠায়ে নিয়ে, খালের পাড়ে গুলি করার সময়ে। কি ভাবে মারছেন, কে কেমন করে মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করে খালে পড়ে যাচ্ছেন তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন। হাত পা অবশ হয়ে আসছিল। মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন। অমনি সময়ে খুব করে মনে পড়ে বৃদ্ধা মায়ের কথা। যে মা তাকে মাত্র ৫ বছর বয়সে, বাবা দারিকানাথ পাল মারা যাবার পর থেকে মানুষ করেছেন। মনে পড়েছে শিশু সন্তানদের কথা, স্ত্রীর কথা। অবশেষে একের পর এক মৃত্যু দেখে সবকিছু ভুলে গিয়ে ঈশ্বরের কথাই স্মরণ করতে থাকলেন। এমনি করে সর্বশেষ হত্যার সিরিয়ালে অমূল্য পালের আগের জন ছিলেন, দশাসই এক তরুণ নাম বাবুল সাহা। খালে নামার আগেই পাক সেনারা গুলি করলে, ধর খালের পানে আর দেহ পড়ে থাকে পাড়ে। অমূল্য পালকে ইঙ্গিত করে বাবুল সাহার লাশ খালে ফেলে দিতে। খালে নেমে দুই বাহু ধরে নামানোর চেষ্টাও চালিয়েছিলেন তিনি। আগাম সতর্ক থাকায় গুলি ছোড়া মাত্রই শরীর বাঁকায়ে এক ডুবে খালের ওপাড়ে গিয়ে ওঠেন। মাথা তুলতে দেখা মাত্রই ফের গুলি চালায়। লাগে বাম হাতের বাহুতে। এরপর ফের ডুব দিয়ে খাদ্যগুদামের জেটির নীচে লুকায়। প্রায় ঘন্টাখানেক ছিল পানির নীচে কেবল নাক উঁচিয়ে। ওই সময় গুলি লাগা ক্ষত স্থানে চেলা পুঁটি মাছ এসে ঠোকরায়ে মাংস ছিড়ে খাচ্ছিল। কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলে রেহাই মেলে। তবে অসম্ভব ঘুম পেয়ে যায়। ঘুমের ঘোরে যেন পানির নীচে তলিয়ে যায়। যেইনা নাকের ভিতরে পানি ঢোকে অমনি জেগে ওঠেন ফের। জোয়ার শুরু হলে ছোট্ট একটু কচুরী পানা ভেসে এলে তাতে কোন মতে, নাক ঢেকে পথ চলতে থাকেন। তখন পাক সেনারা তার দিকে পেছন দিয়ে পশ্চিম দিকে মুখ করে বসেছিল। প্রায় শত গজ দুরে যাওয়া মাত্র স্রোতের তীব্রতা বাড়ায় পরনের ধ্যুতি খুলে ফেলতে বাধ্য হন। কুন্ডু বাড়ির মোড় ঘুরে কালাচাঁন মিস্ত্রীর বাড়ির সামনে গিয়ে দেখেন দুই যুবক ঝোঁপের মধ্য থেকে পাক সেনাদের কার্যক্রম দেখছিল। ওদের কাছে মিনতি করলে অমূল্য পালকে যেইনা তোলতে যায় খাল থেকে, অমনি সময়ে কুন্ডু বাড়ির সামনে থাকা দুই পাক সেনা অস্ত্র তাক করে ছেলে দু’টির পানে। ওসময় ফের তাকে খালে ছেড়ে দিয়ে যুবকদ্বয় ঝেঁপে লুকায়। এরপর কচুরীর পানায় মাথা ঢেকে দুর্গাপুরের খাল ধরে ৩ ঘন্টা পথ চলা শেষে নিকটবর্তী চরায় ওঠেন। হোগল ক্ষেতের ভিতরে থেকে দেখতে পান এই পাড়ায়ও মিলিটারীর উপস্থিতি। সন্তর্পনে উত্তর দিকে একটি বাড়িতে গিয়ে দেখেন কোন লোক নেই সেখানে। দুর্গাপুরের রাধাকান্তের বাড়িতে গেলে অমূল্য পালকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখে পুরানো একখানা লুঙ্গি দেন তারা। নিরাপদ নয় দেখে ওই খান থেকে আধা কিলোমিটার দূরত্বের অতুল শীলের বাড়িতে আশ্রয় নেন। তখনো তার গুলিবিদ্ধ হাত দিয়ে রক্ত ঝড়ছিল। সেদিকে কখনোই তাকাননি, পাছে যদিবা রক্ত দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এখানেও বিপদের শঙ্কায় অবশেষে দেড় কিলোমিটার কাদাময় মাঠ পেড়িয়ে মালেক মোল্লার বাড়িতে আশ্রয় নেন অমূল্য পাল। শরীরের সব শক্তি ফুরিয়ে এসেছে তখন। একখানা ছেড়া হোগলা পেতে দিলে সেখানে শুয়ে পড়েন ক্লান্ত হয়ে। ঘন্টা খানেক পরে মুসলিম পাড়াতেও পাক সেনাদের উপস্থিতি টের পান। নিকটবর্তী বাড়ির ঘরদোর ভাঙ্গার শব্দ শোনা যায়। অমনি সময়ে আশ্রয়দাতা মালেক মোল্লা বিপদের কথা মনে করে অমূল্য পালকে অন্য কোথায়ও চলে যেতে বলেন। জবাবে তার শরীরে আদৌ নড়ার শক্তি পর্যন্ত নেই, একথা জানালে পুকুর ধারের খড়ের গাঁদার মধ্যে লুকিয়ে রাখেন। দুই ঘন্টা ছিল সেখানে অমনি ভাবে। পাকিস্তানি মিলিটারীর চলে যাওয়া নিশ্চিত হলে অমূল্য পালকে সেখান থেকে বের করে এনে বাড়িতে খবর দেন। অবশেষে পাল পাড়ার লোক গিয়ে তক্তার উপর শোয়ায়ে অসুস্থ অমূল্য পালকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পরদিন শনিবার ফের খবর আসে আজো মিলিটারী আসবে। আবার অসুস্থ শরীর নিয়ে এবারে একটানা ৮ দিন পালিয়ে ছিলন দুর্গাপুরের মুসলিম পাড়াতে। বাড়ি ফিরে এসে এখন হাতের কোথায় চিকিৎসা করাবেন? অবশেষে হেলেঞ্চা গাঁয়ের কোদা শীল নামক এক হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নেন। জীবন নিয়ে এত কষ্ট বলে একদা অনেক লোকের বহরে সামিল হন। বাঁচার তাগিদে প্রিয় জন্মস্থান ছেড়ে রওয়ানা দেন ভারতের উদ্দেশ্যে। কখনো পায়ে হেটে কখনোবা নৌকা যোগে। ভেন্নবাড়ি নামক স্থানে পৌঁছা মাত্র নৌকা আর চলেনা। পাক সেনাদের ভয় এড়াতে পাঁচ মাইল হাটলে, ফের দশ মাইল পেছনে ফিরেছেন। এই করে দীর্ঘ এক মাস পথ চলার পর পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনার বাগদা শরনার্থী ক্যাম্পে পৌঁছান। ভগ্নিপতির সহায়তায় কলকাতার নীলরতন হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ হাতের চিকিৎসা করায়েছিলেন। হাতের রগ ছিড়ে যাওয়ায় কোন দিন আর ভালো হবেনা না বলে চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন। সেই থেকে আজো অমূল্য চন্দ্র পাল পঙ্গুত্ব অবস্থায় বেঁচে আছেন। গুলিদ্ধি বাম হাত দিয়ে কোন কাজই করতে পারেন না তিনি। দেশ স্বাধীনের পর ফিরে এসে দেখেন বিরাণ ভিটা। সবকিছু লুটে নিয়েছে দুবৃর্ত্তরা। এক হাত নিয়ে ফের জীবন সংগ্রামে নামা। কোন সহায়তা পাননি তিনি এযাবৎ পর্যন্ত, আর কামনাও করেননি। তাই মুক্তিযুদ্ধের সফলতা, বর্তমান রাজনৈতিক জটিলতা ছাপিয়ে উঠে তিনি যে বেঁচে আছেন, এটাই তার কাছে বড় কথা।

লেখকঃ বিধান সরকার, গল্পকার।

Facebook Comments