ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষে আশার আলো দেখছে ভোলায় কৃষকরা

 Posted on

অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা।।

গতানুগতিক ফসলে লাভ না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন ভোলার কৃষকরা। তাই, ভাগ্য বদলাতে এবার অসময়ে তরমুজ চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন তারা। উন্নত কৃষি-প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেমনি ফলন ভালো হচ্ছে, তেমনি দামও পাচ্ছেন সন্তোষজনক। তাই ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ চাষে ফের আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন জেলার কৃষকরা।

সরেজমিনে ভোলা সদর, দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে শীত গ্রীষ্ম বর্ষার তারতম্য না থাকায় গতানুগতিক ফসলে ক্ষতির সম্মুখিন হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে ভোলার কৃষকরা। গতবছর ভোলায় প্রথমবারের মতো অসময়ে ব্লাক বেবি তরমুজ চাষ করে সফলতা পায় দৌলতখান উপজেলার চরপাতা গ্রামের বেকার যুবক সৌরভ হাওলাদার। তার এই সাফল্যের পেছনে প্রেরনা যুগিয়েছে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার। কম খরচে বেশি ফলন ও বাজারে চাহিদা থাকায় তার দেখাদেখি বেবি তরমুজ চাষে অন্যরাও আগ্রহী হতে শুরু করে।

এবছর পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার কাছ থেকে বীজ, প্রশিক্ষণসহ নানা উপকরণ নিয়ে জেলার ৬০জন চাষি ছয় একর জমিতে মাচা পদ্ধতিতে ব্লাক বেবি তরমুজ আবাদ করেন।দেশি তরমুজ চাষের অর্ধেক খরচ বেবি তরমুজে । এছাড়া ফসল নষ্ট হবার কোনো সম্ভাবনা না থাকায় কৃষকের মাচায় সারি সারি তরমুজ ফলন হয়। আর ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফোটে।দুই মাসেই এ তরমুজ বিক্রির করতে শুরু করেন তারা। বাজারে ভালো দামও পান এসব তরমুজের| দেখতে সুন্দর ও খেতে সুস্বাদু হওয়ায় আসপাশের মানুষ ক্ষেত থেকেই এ তরমুজ কিনে নিতে শুরু করে। পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকরাও ব্লাক বেবি তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়।

বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচরা গ্রামের ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ চাষি স্বজল ভাওয়াল ও চান মিয়া বলেন, এমন তরমুজ আমরা কখনো দেখিনি। গ্রামীণ জন উন্নয়ণ সংস্থা থেকে আমারা বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ নিয়ে ১০ শতাংশ জমিতে ব্ল্যাক বেবির চাষ করি। লাভও হয় ভালোই। ১০ শতাংশ জমিতে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে এবছর ৩৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেন তারা।

অপরদিকে একই উপজেলার রাম কেশব গ্রামের কৃষক মিথিল চৌধুরী ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ে বৈরী আবহাওয়ার কারনে গতানুগতিক ফসল চাষে তাদের ক্ষতির সন্মুখিন হতে হয়েছে। তাই, এবছর ৮ শতাংস জমিতে ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষ করেন তিনি। ফলনও ভালো হয়েছে। ৮ শতাংস জমিতে ১২ হাজার টাকা খরচ করে ৩০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেন।

তাদের দেখাদেখি এলাকার কৃষক ছিদ্দিক বেপারী, জাকির হোসেন ও শহিদুল বেপারীসহ অনেকেই সামনের বছর এ জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন জানান, ভোলায় একসময় ব্লাক বেবি তরমুজ চাষ হতো না। ২০১৯ এবং ২০২০ পর পর দুই বছর বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করেছে তারা। চলতি বছর কৃষকরা ব্লাক বেবি তরমুজ চাষে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। এছাড়া বাজারে বিক্রি করেও ভালো দাম পায়। ফলে আগামী বছর অনেক কৃষক নিজ উদ্যোগে এই তরমুজ চাষে এগিয়ে আসবে বলে মনে করেন সংস্থাটির প্রধান এই কর্মকর্তা।

Facebook Comments