বালিয়াকান্দিতে ১৪৯টি মন্দিরে আজ শারদীয় দূর্গাপূজা শুরু

 Posted on


\ রাজবাড়ী প্রতিনিধি \
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এ বছর ২৬ দফা নির্দেশনা মেনে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ১৪৯ টি মন্ডপে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে। করোনা সংক্রমনের কথা মাথায় রেখে মহালয়া অনুষ্ঠান সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করা, মন্ডপে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের জীবানুমুক্ত করা, মাস্ক ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিতসহ ২৬ টি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ২২ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে শুরু হবে এ পূজা এবং ২৬ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা বির্সজনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে। মহামারী করোনার কারণে এবার দুর্গাপূজার আনন্দ অনেকটা ¤øান হতে চলছে। প্রতি বছরের মতো এবার পূজার সেই পুরোনো সংস্কৃতি অনেকটা লুকিয়ে থাকবে অগোচরে। বাইরে ঘুরতে যাওয়া, পূজার মন্ডপগুলোতে নানা ধরণের আয়োজন থাকছে না। মহালয়া থেকে শুরু করে শারদীয় উৎসবের সবক্ষেত্রেই থাকছে স্বাস্থ্যবিধির কড়া নির্দেশ। করোনা পরিস্থিতির কারণে কীভাবে হবে দুর্গাপূজা সে অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলায় বিভিন্ন পূজামন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ।
প্রতিমা তৈরির কারিগর কৃষ্ণপদ পাল বলেন, প্রতিবছর এ সময় ১৫-১৬টি পূজামন্ডপে কাজ করে থাকি। এ বছর মাত্র ১২টি পূজামন্ডপের কাজ করছি। তবে বিগত বছরের চেয়ে এবার পারিশ্রমিক কম নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে আসা শিল্পীরা বলেন, এবছর করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের আর্থিক অনেক ক্ষতি হয়েছে যা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে। সনাতনী পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার মহালয়া হবে ১৭ সেপ্টেম্বর, বাংলা মাসের ৩১ ভাদ্র। এবার আশ্বিন মাস ‘মল মাস’ মানে অশুভ মাস। সে কারণে এবার আশ্বিনে দেবীর পূজা হবে না। পূজা হবে কার্তিক মাসে। সেই হিসাবে এবার দেবী দুর্গা মত্যে আসবেন মহালয়ার ৩৫ দিন পরে। এ কারণে ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে হবে বোধন ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা। পরদিন ২৩ অক্টোবর মহাসপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আচার অনুষ্ঠান। ২৪ অক্টোবর মহা অষ্টমী এবং ২৫ অক্টোবর মহানবমী পূজা। ২৬ অক্টোবর মহাদশমী বা বিজয়া দশমী হবে। এই দিন প্রতিমা বির্সজনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
ইলিশকোল সার্জনীন রাধা গোবিন্দ পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি কমল কৃষ্ণ দাস বলেন, আমাদের গ্রামে ৫০ বছর ধরে অস্থায়ী মন্দিরে পূজা অর্চনা করে আসছি। গত ৬মাস পূর্বে অমর চন্দ্র দাস ৬শতাংশ জমি রাধা গোবিন্দ মন্দিরের নামে রেজিষ্ট্রি করে দেন। আমাদের এলাকার ৫৫টি পরিবার স্থায়ী এ মন্দিরে এই প্রথম পূজা অর্চনা করবেন।
বালিয়াকান্দি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাম গোপাল চ্যাটার্জী বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির ২৬টি নির্দেশনা মেনে ১৪৯টি মন্দিরে এ বছর পুজা অনুষ্ঠিত হবে। সবাইকে নির্দেশনা পালন করেই পূজা অর্চনা পালনের জন্য আমরা প্রতিটি ইউনিয়নের পূজারীদের সাথে মিটিং করেছি।
বালিয়াকান্দি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি সনজিৎ কুমার দাস বলেন, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ বিপদে আপদে সব সময় সকলে পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করে। আমরা আমাদের ভাইদের যেখানে যে সমস্যা হয়েছে যেই মন্দিরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে সাথে সাথে আমরা ছুটে গিয়েছি। এ কাজে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পিপিএম আমাদের সর্বাত্বক সহযোগিতা করেছেন। যখনই আমরা ফোন করেছে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এক গাড়ি পুলিশ আমাদের সাথে দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, করোনাকালীন এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম সব সময় আমাদের খোজ খবর নিয়েছেন। তার সাধ্যমতো আমাদের সহযোগিতা করেছে। আমারা তার চেয়ে যখন যে সহযোগিতা চেয়েছি সাথে সাথে পেয়েছি।

Facebook Comments