বালিয়াকান্দিতে প্রবাসী হত্যার আসামী ও স্বজনদের বিরুদ্ধে মোবাইলে হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগ

 Posted on


রাজবাড়ী প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ছাগলে ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় মামলার বাদী পক্ষকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে প্রভাবশালী আসামী পক্ষ ও তার স্বজনেরা। আর পুলিশ বলছে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে নিয়মিত পুলিশ টহল জোড়দার ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে চলছে জোর অভিযান।
স্থানীয়রা জানান, বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের বকশীয়াবাড়ি গ্রামে দীর্ঘ্যদিন যাবৎ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো সাবেক ইউপি সদস্য বছির ফকির ও বর্তমান ইউপি সদস্য সাদ্দাম ফকির পরিবারের সাথে। গত ৪ অক্টোবর বিকেলে বছির ফকিরের জমিতে পাকা ধান খেয়ে নষ্ট করছিলো সাদ্দাম ফকিরের ছাগল। এতে সাবেক মেম্বার বছির ফকিরের ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী রবিউল ইসলাম (রব) ফকির বাধা দিলে সাদ্দাম ফকিরের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তাকে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ওই ঘটনায় দুই পক্ষের আরো ৮ জন আহত হয়।
নিহতের ভাই বছির ফকির জানান, বর্তমান মেম্বার সাদ্দাম ফকির খুবই প্রভাবশালী হওয়ায় সে আত্মগোপনে থেকেও মোবাইলে এবং তার স্বজনেরা এখন মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। সেই সাথে আমার পরিবারের আরো খারাপ অবস্থা করবে বলেও হুমকি দিচ্ছে।
নিহতের মা সত্তর বছর বয়সী নুরজাহান বেগম বলেন, আমার তরতাজা ছেলেটা বাড়ি থেকে ভালো বের হয়ে ফিরে আসলো লাশ হয়ে। সাদ্দাম ফকির ও তার লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পাশের পুকুরে ফেলে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেছে বলে জানান তিনি। সেই সাথে ছেলে হত্যাকান্ডের সাথে জরিতদের বিচারের দাবী জানিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে কথা বলতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।
এদিকে হত্যাকান্ডের পর ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আনছার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ্য করে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। সেই সাথে ১৭ আসামীর মধ্যে থেকে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বকশীবাড়ি এলাকায় আনছার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

Facebook Comments