বালিয়াকান্দিতে গড়াই নদী ভাঙ্গন রোধ ও গতিপথ পরিবর্তনে বাঁশের বেড়া স্রোতে ভেসে গেছে

 Posted on


সোহেল রানা, রাজবাড়ী:
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার শত শত বসত বাড়ি ও ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। নদী ভাঙ্গনরোধে স্বল্প খরচে অল্প সময়ে বাঁশের বেড়া প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। এতে পরিবর্তন হওয়ার কথা নদীর গতিপথ, কমবে ভাঙ্গন, বাড়বে ফসলী জমি। সরকারের এমন উদ্যোগে খুশি নদী পারের হাজার হাজার পরিবার। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ না করার কারণে নদীর তীব্র ¯্রােতে বাঁশের বেড়া ভেসে গেছে।
গত বছরের আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে পাঁচটি উপজেলায় ১৯ টি পয়েন্টে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন শুরু হয়। এতে শত শত বসতবাড়ি ও হাজার হাজার বিঘা ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। সবচেয়ে ভাঙ্গন কবলীত এলাকা বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়ন ও জঙ্গল ইউনিয়ন। এই এলাকা দুটিতে ভাঙ্গনরোধে স্বল্প খরচে বাঁশের বেড়া দ্বারা বাধ নির্মান প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়।
বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের জামসাপুর এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, সেখানে গড়াই নদীতে বাশের বেড়া দেওয়ার কাজে বাঁশের বেড়া দেওয়া হলেও কাঠের বলি দেওয়া হয়নি। তবে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোতে কাঠের বলি পুতা না হওয়ার কারণে বাঁশের বেড়া নদীতে ভেসে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নারুয়া ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক শেখ মহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই বন্যার সময় এই এলাকার প্রচুর জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়। এই প্রকল্পটি সঠিকভাবে এবং দ্রুত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ার কারণে এখন উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হচ্ছে। কাঠের বল্লি না দেওয়ার কারণে বাঁধটি মজবুত হয়নি। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে তীব্র ¯্রােতে বাঁশের বেড়া পানিতে ভেসে গেছে। এলাকার অনেক লোকজনই ভেসে যাওয়া বাঁশ উদ্ধার করে নদীতেই বেধে রেখেছেন। শুনলাম এখন কাঠের বুল্লি এনেছে। এখন বাঁশ নেই তাহলে কাঠের বুল্লি গেড়ে কি লাভ হবে।
নারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সালাম মাষ্টার বলেন, গড়াই নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধসহ পানি প্রবাহ গতিরোধ করতে ব্যাম্বো ব্যান্ডেলিং পাইলট প্রকল্পটি ব্যাপক ভুমিকা রাখবে বলে আশা করেছিলাম। এখন লোকজন এসে অভিযোগ করেছে বাঁশের বেড়া পানির ¯্রােতে ভেসে গেছে। বিষয়টি নদী গবেষনা ইনস্টিটিউটকে অবগত করা হয়েছে।
এ ব্যপারে নদী গবেষনা ইনিস্টিটিউট ফরিদপুরের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, সারাদেশে নদী ভাঙ্গন কবলীত এলাকায়ই এমন প্রকল্প গ্রহন করা হবে। এতে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে ও ভাঙ্গন কমবে সেই সাথে বাধের অপরপারে পলি ও বালিমাটি পরে বাড়বে ফসলী জমি এতে কৃষকেরা চাষাবাদ করতে পারবে। রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের জামসাপুর এলাকায় নদী ভাঙ্গনরোধে দেড় কিলোমিটার এলাকায় বাঁশের বেড়া প্রকল্পটিতে খরচ হবে মাত্র ৭৫ লক্ষ টাকা। যে কাজটির পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের তত্ত্বাবধানে দেখভাল করছে নদী গবেষনা ইনিস্টিটিউট। কাজটি সম্পন্ন করবে ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন। তিনিও স্বীকার করেন কাঠের বল্লি পুতার কথা। তবে কাঠের বল্লি পোতার জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।

Facebook Comments