বাঙালী উৎসব বেড়েছে শহরে, কমেছে গ্রামে

 Posted on

গোপাল অধিকারী, জেলা প্রতিনিধি (পাবনা) :: অতীতে নববর্ষ পালনে তেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা না থাকলেও বর্তমানে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই পালিত হয় নববর্ষ। ব্যানার, ফেস্টুন আর ঢাক-ঢোলে মেতে ওঠে বাংলাদেশ। সারাদেশের ন্যায় পাবনাতে পূর্বে আংশিকভাবে এসব অনুষ্ঠান পালিত হলেও বর্তমানে জাকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়। সকালে জেলা প্রশাসন ও সকলের অংশগ্রহণে বের হয় বণার্ঢ্য র‌্যালি। এছাড়াও পাবনার সুজানগর, সাঁথিয়া, বেড়া, ঈশ্বরদী, চাটমোহর, আটঘড়িয়া, ভাঙ্গুড়াতে উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে নববর্ষ পালিত হয়। নতুন বছরকে বরণ করতে আয়োজন করা হয় পান্তা ইলিশের। এছাড়াও পাবনা সদরে চৈত্র সংক্রান্তি পালিত হয়। পালিত হয় সুজানগরের সাতবাড়িয়া ও চাটমোহরে। এ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাঙালীর যে উৎসবগুলো আছে তা অতীতের ন্যায় সব অঞ্চলে পালিত হয় না। একমাত্র পাবনা সদরে ছাড়া অন্য উপজেলাতে পিঠা-পুলি, নবান্ন, পৌষ-পার্বন ও চৈত্র সংক্রান্তি পালিত হয় না। অঞ্চল বিশেষে দু’একটি উৎসব পালিত হয়। এর কারন আধুনিকতা, মানসিকতার অভাব, পৃষ্টপোষকতার অভাব ও অনাগ্রহ। বর্তমানে মানুষের ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ ঐতিহ্যের প্রতি আস্থাশীল নাই। এছাড়াও বর্তমানে প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ার কারণে মানুষ প্রথা বা রীতি-নীতি থেকে বেরিয়ে আসছে। পূর্বে ঢেকিতে ছাতু বানানো হলেও বর্তমানে তা আর দেখা যায় না। ফলে ছাতু খাওয়ার প্রবনতা হারিয়ে গেছে। বাঙালী উৎসব সম্পর্কে জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পলাশ ডিকস্টা বলেন, পূর্বে যেভাবে বাঙালী উৎসবগুলো পালিত হতো কিন্তু বর্তমানে মানুষ ডিজিটাল হওয়ায় সব হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন বর্তমানে সনাতন সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ এখন নিজ বাড়িতে কিছু উৎসব পালন করে। এছাড়া উৎসবগুলো সেইভাবে পালিত হয় না। শুধুমাত্র চাটমোহরে চৈত্র সংক্রান্তি পহেলা বৈশাখের দিন চড়কপূজা অনুষ্ঠিত হয় সাড়ম্বরে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যমন্ডিত চাটমোহরের বোথরে চড়কমেলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিমল চক্রবর্তী জানান, পূর্বের যে উৎসবমূখর দেশ ছিল। তা আর নেই। বর্তমানে কিছু সংখ্যক উৎসব দেখা গেলেও তা সন্তোষজনক নয়। সুজানগর উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রঞ্জিত রায় জানান, সুজানগরে বাঙালী উৎসবগুলো পালনের প্রবনতা কমে গেছে। পূর্বে তা বিশদভাবেই পালিত হতো। পূর্বে আউস ও আমন এই দুই প্রকার ধান উৎপন্ন হতো। কিন্তু বর্তমানে সারাবছর ধান উৎপন্ন হয়। ফলে আগের মত সেই প্রবণতা কাজ করে না। পাবনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাদল ঘোষ জানান, পাবনাতে সকল বাঙালী উৎসব উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই উদযাপিত হয়। তবে শহরে তা বেশি হয়। এ ছাড়া সুজানগর ও চাটমোহর ছাড়া অন্য উপজেলাতে সেইভাবে পালিত হয় না। পাবনা জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিনয় জ্যোতি কুন্ডু জানান, পাবনাতে বর্তমানে বাঙালী উৎসবগুলো পূর্বের চেয়ে বেশি জাকজমকভাবেই উদযাপিত হয়। পূর্বে পৌর্ষ-পার্বন, নবান্ন উৎসব ও চৈত্র সংক্রান্তি সেইভাবে পালিত না হলেও বর্তমানে সরকারি উদ্যোগে বাঙালী উৎসবগুলো আরও আড়ম্বরে উদযাপিত হয়। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও পাবনাতে বাঙালী উৎসবগুলো পালিত হয়।

গোপাল অধিকারী, নির্বাহী সম্পাদক ইতিহাস২৪, উপজেলা প্রতিনিধি-বাংলাদেশের খবর ও র্বাতা সম্পাদক সাপ্তাহিক সময়ের ইতিহাস, সদস্য , শারি’র মাইনরিটি’স হিউম্যান রাইটস মিডিয়া ডিফেন্ডার ফোরাম।

Facebook Comments