ফেয়ার ও কারুযোগের যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন

 Posted on


৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারীর সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯১৪ সাল থেকে বিভিন্ন দেশ দিবসটি পালন করে আসছে। ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ দিনটি ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে পালন করছে।

সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবার নারী দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’।

ফেয়ার একটি মানবাধিকার সংস্থা হিসেবে প্রতিবছরের ন্যয় এবছরও দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। দিবসটির তাৎপর্য স্কুল শিক্ষার্থীদের এবং প্রান্তিক নারীদের মাঝে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ফেয়ার এবং কারুযোগ এর যৌথ উদ্যোগে ৮ মার্চ লক্ষীপুর হাসানবাগ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে এবং বিকালে হরিশংকরপুর উত্তর লাহিনী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সকালে লক্ষীপুর হাসানবাগ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক জনাব রনজু আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো শামছুল আলম। তিনি বলেন, তিনি নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দুর করে সমাজে সমতা আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন ফেয়ার এর প্রকল্প সমন্বয়কারী কেএম হারিসুল আলম। সভায় স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিকালে হরিশংকরপুর উত্তর লাহিনী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফেয়ার এর পরিচালক দেওয়ান আখতারুজ্জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পৌরসভার ১০, ১১, ১২ নং ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর রিনা নাসরিন। তিনি বলেন নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা আনতে হলে নারীদের শিক্ষা ও কর্মে আসতে হবে এবং নারীদের বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন ফেয়ার এর সাধারণ পরিষদের সদস্য কারসেদ আলম। তিনি নারী দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং নারীর মর্যাদা ও সমতা রক্ষা ও নির্যাতন প্রতিরোধে সকল নারীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করার আহবান জানান। সভায় স্থানীয় পর্যায়ের নারীগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানগুলো সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন রাশেদা খাতুন, জাফরিন সুলতানা কৌশিক আহমেদ শাওন, রবিন কুমার।

উল্লেখ্য যে, ১৮৪৮ সালের ১৯-২০ জুলাই নিউইয়র্কে সর্বপ্রথম নারীদের অধিকার নিয়ে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯০৮ সালে নিউইয়র্কে সোস্যালিস্ট পার্টি অব আমেরিকার উদ্যোগে নির্ধারিত সময় ও সমমজুরির দাবিতে ধর্মঘট পালন করেন নারী বস্ত্র শ্রমিকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম নারী দিবস পালন করা হয়। ১৯১০ সালে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে শ্রমজীবী নারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত কোপেনহেগেন সম্মেলনের পর ১৯ মার্চ অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে নারী দিবস পালিত হয়। ১৯১৭ সালে তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে নারীরা ভোটাধিকার পাওয়ার ফলে ৮ মার্চ সেখানে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হতে থাকে। তারপর থেকেই সমাজতান্ত্রিক দলগুলো কমিউনিস্ট শাসিত দেশগুলোয় ৮ মার্চ নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারী বর্ষ উপলক্ষে জাতিসংঘ দিবসটি প্রথম পালন করে। তার পর ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ৮ মার্চকে নারী অধিকার ও বিশ্ব শান্তি দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

Facebook Comments