প্রাচীন বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সোনারং জোড়া মঠ

 Posted on

দলিতকন্ঠ ডেস্ক : প্রাচীন জনপদ বিক্রমপুর, বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ। এখানকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে নানান প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন। মুন্সিগঞ্জ জেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সোনারং গ্রামে রয়েছে বাংলাদেশের অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রাচীন এক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সোনারং জোড়া মঠ।

ইতিহাসখ্যাত এই সোনরং গ্রামের সাথে জড়িয়ে আছে উদীচীর প্রতিষ্ঠাতা, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি বিপ্লবী, সাহিত্যিক এবং শ্রমিক-সংগঠক সত্যেন সেনের নাম। এছাড়া তাঁর পিতৃব্য ক্ষিতিমোহন সেন ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব আচার্য।

কথিত ইতিহাসে জোড়া মঠ হিসেবে পরিচিত পেলেও মূলত এটি জোড়া মন্দির। মন্দিরের একটি নামফলক থেকে জানা যায় রূপচন্দ্র নামে এক হিন্দু বণিক বড় কালীমন্দিরটি ১৮৪৩ সালে ও ছোট মন্দিরটি ১৮৮৬ সালে নির্মাণ করেন। ছোট মন্দিরটি মূলত শিবমন্দির। বড় মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ১৫ মিটার। সোনারং গ্রামে এক সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। কথিত আছে, এই মন্দিরেই শ্রী রূপচন্দ্রের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল।

চুন-সুড়কি আর ইট দিয়ে তৈরি এই স্থাপনা দুটিরই প্রধান উপাসনালয় কক্ষের সঙ্গে রয়েছে বারান্দা। এই মন্দির দুটির বাইরের দেয়ালে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ফোকর। বাসা বেঁধেছে নানান প্রজাতির পাখি।

এই স্থাপনা থেকেও অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে বিভিন্ন সময়ে। মন্দিরের শিখরে স্থাপিত ত্রিশুলটি বাঁকা হয়ে আছে। এটিও কয়েকবার চুরির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। মন্দিরের দেয়াল অযত্ন অবহেলায় খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও ধরেছে বড় ধরনের ফাটল।

অনন্য সাধারণ কারুকার্যমন্ডিত সোনারং জোড়া মঠের সৌন্দর্য কালের বিবর্তনে অনেকটা বিলীন হলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে থাকা প্রাচীন এই মঠটি দেখতে দূর দুরান্ত থেকে অনেক দর্শনার্থী ভিড় করে।

Facebook Comments