পাংশায় ক্লিনিকে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু ঘটনায় তদন্ত

 Posted on


রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঃ রাজবাড়ীর পাংশা পৌর শহরের আজিজ সরদার বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় মা, শিশু ও ডায়াবেটিক হাসপাতাল নামে একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের ৮ ঘন্টা পর এক প্রসূতি মা মারা যাওয়ার ঘটনায় সোমবার সরেজমিনে মা, শিশু ও ডায়াবেটিক হাসপাতালে তদন্ত করেছেন পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ জিয়াউল হোসেন। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ খ্যদ্য পরিদর্শক মোঃ তৌবুর রহমান। তদন্ত কমিটি নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলেছেন ক্লিনিকের সাথে সংশ্লিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তের স্বার্থে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসি বেগম (৩৫) নামের এক প্রসুতি মায়ের মৃত্যু হয় ওই ক্লিনিকে নিহত হাসি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের চরঘি-কমলা গ্রামের আবুল কাসেমের স্ত্রী। প্রসঙ্গতঃ পাংশার আজিজ সরদার বাসস্টান্ড এলাকায় ইব্রাহিম প্লাজায় মা, শিশু ও ডায়াবেটিক হাসপাতাল অবস্থিত। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ওই নারী ক্লিনিকে ভর্তি হন। সকাল ১০টার দিকে তাঁর শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। অপারেশন করেন ডা. মোঃ আক্তার হোসেন। অস্ত্রোপচারের পরপর প্রসূতির শারীরিক অবস্থা বেশ ভালই ছিল তবে দুপুর ২টার পর থেকে তার শরীরের অবস্থার অবনতি হতে থাকে পরে সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। এরপর ক্লিনিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সটকে পড়ে। প্রসূতির স্বজন ও বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ক্লিনিকে উপস্থিত হয়। তাঁরা ক্লিনিকের অভ্যর্থনাকক্ষ ভাংচুর করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ ক্লিনিকের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তবে এ ঘটনায় থানায় কোন লিখিত অভিযোগ প্রদান করে নি নিহতের পরিবার। পাংশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ন রেজা বলেন, বিকেলের দিকে প্রসূতি মারা যান। তবে নবজাতক শিশু ভালো আছে। বিক্ষুদ্ধ স্বজনেরা ক্লিনিকের অর্ভ্যথনাকক্ষ ভাংচুর করেছে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। মারা যাওয়ার নারীর স্বজনেরা থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করে নাই। ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রোগী মারা যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন অপারেশনের প্রায় ৮ ঘন্টাপর সে মারা গিয়েছে মারা যাওয়ার পর রোগীর স্বজন ও এলাকার বেশ কিছু লোকজন আমার ক্লিনিকে ভাংচুর চালিয়ে আল্ট্রাসনো মেশিন, এক্স-রে মেশিন ও রিসিভশনে থাকা টেলিভিশনসহ বেশ কিছু ভাংচুর করেছে যা প্রায় ১২ লক্ষ টাকার মতো ক্ষতি সাধন হয়েছে।

Facebook Comments