ন্যায্য মজুরী থেকে আজও বঞ্চিত পিরোজপুরে দলিত জনগোষ্ঠী

 Posted on

রবিউল হাসান মনির, পিরোজপুর :: বাংলাদেশে সরকারি বে-সরকারি চাকুরী তথা আনুষ্ঠানিক খাতে নারী পুরুষের বেতন বা মজুরির বৈষম্য অনেকটা কম হলেও অনানুষ্ঠানিক খাতে মজুরি বৈষম্য এখনো অনেক বেশী। আর সব চেয়ে বেশি মজুরী বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন দলিত সম্পদায়ের মানুষ। দেশে আইনের চোখে সকল মানুষই সমান। সবাই আইনের কাছে সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। শুধু আমাদের দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক আইন ও অন্যান্য দেশের আইনেও মানুষের সমান অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সব ধরণের বৈষম্যমূলক আইন বাতিল করে একটি শোষন ও বঞ্চনাহীন সমাজ গঠন করাই আধুনিক আইন ব্যবস্থার লক্ষ্য হলেও আজও আমাদের দেশের সমাজের দলিত জনগোষ্ঠির শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দলিত জনগোষ্ঠির শ্রমিকরা অন্য শ্রমিকদের সমপরিমাণ কাজ করলেও ন্যায্য মজুরী থেকে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। দলিত সম্প্রদায়ের শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, জীবিকার তাগিদে মুজরী বৈষম্য মেনে নিয়েই অন্য শ্রমিকদের সংগে কাজ করছেন তারা। সংসারের আর্থিক সহায়তার জন্য পুরুষের পাশাপশি দলিত শ্রেণির নারীরাও ঘরের কাজ সেরে বাইরে শ্রমিকের কাজ করছে। আর এই দলিত শ্রেণির পুরুষ শ্রমিকদের চেয়েও নারী শ্রমিকরা পুরুষের সমান কাজ করেও মজুরী বৈষম্যের শিকার হন।

দলিত সম্প্রদায়ের মৃৎ শিল্পি তুলসি রঞ্জন পাল বলেন, আমি সাধারণত মাটির তৈরি জিনসিপত্র তৈরি করে থাকি। বর্তমানে বর্ষার কারনে মাটির কাজ করতে পারছি না। তাই সংসারের খরচ চালানোর তাগিদে অন্যের জমিতে দিন মজুর হিসাবে জমি চাষ ও চারা লাগানোর কাজ করছি। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে কাজ করি অন্য শ্রমিকদের সাথে। মাঠে অন্য শ্রমিকদের সমপরিমাণ কাজ করলেও মজুরীর সময় অন্যদের চেয়ে ২শত টাকা কম পাই আমি। আমার সাথের শ্রমিকরা প্রতিদিন তাদের কাজের বিনিময় ৭শত টাকা করে পেয়ে থাকেন। আর আমি পাই ৫শত টাকা করে। তার পরেও সংসার চালানোর কথা চিন্তা করে কাজ করছি। এছারা আর কি করবো বলেন। আমর মতো আমাদের শ্রেণির অনেকেই মজুরীর বৈষম্যের শিকার।

দলিত সম্প্রদায়ের নারী শ্রমিক নমিতা দাস বলেন, সংসারের খরচ চালানোর জন্য আমি ঘরের সকল কাজ শেষ করে একটি দোকানে সেলাইয়ের কাজ করি। দোকানটিতে আমার সাথে আরও ২জন পুরুষ কাজ করেন। আমরা সকলেই প্রোডাকশনে কাজ করে থাকি। আমি মেয়েদের ১টি জামা ও স্যলোয়ার তৈরি করে পাই ৬৫ টাকা। আর একই পোষাক তৈরি করে পুরুষরা পায় ৮০ টাকা করে। তার পরেও সংসারের সুখ শান্তির জন্য মজুরী কম হলেও কাজ করছি।

বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মিল্টন বলেন, আমাদের সমাজের দলিত সম্প্রদায়ের শ্রমিকরা অন্য শ্রমিকদের সাথে তাল মিলিয়ে সমপরিমাণ কাজ করলেও মজুরি বৈষম্যের শিকার হয়ে তারা আজও অবহেলিত। আইনে সকলের কাজ ও ন্যায্য মজুরির সমঅধিকার রয়েছে। কিন্তু ন্যায্য মজুরির ব্যপারে সমঅধিকার সমাজে দেখা যায় না। এই মজুরী বৈষম্য নিরসনের জন্য সরকারের পাশাপাশি আমাদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে।

Facebook Comments