পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য হবে ৩ হাজার ৪০ ফ্ল্যাট

 Posted on

দেশের ৬৬ পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৪০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।

প্রস্তাবিত ৪৭২ বর্গফুটের প্রতিটি ফ্ল্যাটে রয়েছে ২টি করে শোবার ঘর, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও ২টি ছোট বারান্দা।

ভবনের সম্পূর্ণ ফ্লোর টাইলস বসানো থাকবে। প্রতিটি ভবনে সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের জন্য জেনারেটর, সাবস্টেশন ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া একটি স্টোর রুমও থাকবে। তবে পাঁচতলা ভবনে লিফট সুবিধা থাকবে না। চাকরিতে যোগদানের পাঁচ বছরের মধ্যেই ফ্ল্যাট বরাদ্দের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। যা চাকরিকালীন মাসিক ভাড়া থেকে সমন্বয় করে সহজ শর্তে হস্তান্তর করা হবে।

ঢাকাসহ সারাদেশে প্রকল্পের মাধ্যমে সহজ শর্তে ও দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে এসব প্লট-ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তাবিত প্রকল্পের সব কিছু এখনও নির্দিষ্ট করা হয়নি। সামনে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হবে। সভায় সব কিছু চূড়ান্ত হবে।

‘সিটি কপোরেশন ও পৌরসভায় পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের’ আওতায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প থেকে বিদেশ ভ্রমণ ও কেনায় কাটছাঁট করার পরামর্শ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এছাড়া পরামর্শক ব্যয় খাতে বাড়তি বরাদ্দ প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। ৬ তলা বিশিষ্ট ভবনে ৩ হাজার ৪০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ হবে। সব মিলিয়ে ১ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করতে চায় স্থানীয় সরকার বিভাগের স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রধান মো. আকতার হোসেন বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে একবার পিইসি সভা হয়েছে। সামনে আরো একটা পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হবে। কীভাবে ফ্ল্যাটগুলো নির্মাণ ও বিতরণ করা হবে, সেই বিষয়টি সভায় সুনির্দিষ্ট করা হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ জানায়, বর্তমানে নগরায়ন বাড়ছে। একটি উল্লেখযোগ্যহারে মানুষ নগরে বসবাস করছেন। এবার নগরগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আবাসন ব্যবস্থা না থাকায়, তারা অত্যন্ত নোংরা ও ঘিঞ্জি পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অর্থ সংকটের কারণে সব পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য আবাসন ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। প্রকল্পটি ৮ বিভাগের মোট ৬৬ পৌরসভায় বাস্তবায়িত হবে। চলতি বছর থেকে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চায় স্থানীয় সরকার বিভাগ। ডিপিপি অনুসারে, প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। ৬৬টি পৌরসভার মধ্যে ৪১টি পৌরসভায় জমি পাওয়া গেছে। জমির পরিমাণ ১৯ দশমিক ৭৫ একর। ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় ১৪৩ কোটি টাকা। বাকি পৌরসভাগুলোর জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, প্রথমে প্রকল্পের আওতায় ৭ হাজার ১৭০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা ছিলো স্থানীয় সরকার বিভাগের। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা, তখন প্রকল্পের প্রস্তাবিত মেয়াদ ছিল ৫ বছর। প্রকল্প সংশোধন করে ৩ হাজার ৪০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। প্রকল্পে ২ হাজার ১৪২ জনমাস (একজন ব্যক্তির কাজের সময়কাল) পরামর্শক বাবদ ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছিল সাড়ে ২৯ কোটি টাকা। তবে এতো সংখ্যক পরামর্শক ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পপনা কমিশন। ব্যয় অর্ধেকে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্পের আওতায় মাটি ভরাট, সীমানা প্রচীর নির্মাণ, ড্রেনেজ নির্মাণ, আরসিসি সংযোগ সড়ক নির্মাণ, সুয়ারেজ পরিশোধন, গ্রাউন্ড রিসার্চ, রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

এছাড়া বিদেশ ভ্রমণ বা শিক্ষা সফর বাবদ ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হলেও পরিকল্পনা কমিশন তা কমিয়ে ৭৫ লাখ টাকা করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে এ শিক্ষা সফর এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি জিপ, একটি পিকআপ ভ্যান, ৬৬ মোটরসাইকেল কেনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও পরিকল্পনা কমিশন তা নাকচ করে দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মো. মামুন-আল-রশীদ বলেন, প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুজিববর্ষে অসহায় মানুষের জন্য গৃহ নির্মাণের সঙ্গেও কিছুটা সামঞ্জ্যস্যপূর্ণ। কারণ পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আয় সীমিত হওয়ায় তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় কম ও তারা খুবই ঘিঞ্জি-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাস করেন। তবে স্থানীয় সরকারের করা এ প্রস্তাবে কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। পরে তা সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র : এমপি নিউজ ডটকম ডটবিডি

Facebook Comments