তীব্র ভাঙ্গনে দিশেহারা রাজবাড়ীর গড়াই ও চত্রা পারের মানুষ

 Posted on


সোহেল রানা, রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঃ পানি কমে যাওয়ায় তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার গড়াই ও চত্রা নদীতে। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে ফসলী জমি বসতবাড়িসহ বহু স্থাপনা। এছাড়াও ভাঙ্গনের কারনে নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে দুটি পাকা সড়ক যে কারনে উপজেলার সাথে অন্তত দশটি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অসময়ের এই ভাঙ্গনকে অপরিকল্পিত নদী খননকেই দুষছেন জনপ্রতিনিধিরা।
গতকাল সোমবার সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া সমাধীনগর পাকা সড়কে গিয়ে দেখাযায়, সেখানে গত এক সপ্তাহের ভাঙ্গনে অন্তত ৫০ মিটার এলাকা নদী গর্ভে ও পার্শ্ববর্তী জামসাপুর-কোনাগ্রাম পাকা সড়কের আরো অন্তত ৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। যে কারনে এই সড়ক দুটি দিয়ে চলাচলকারী দশটি গ্রামের বাসিন্দারা পরেছেন চরম বিপাকে। এদিকে পানি কমার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে নারুয়া ইউনিয়নের মরাবিলা গ্রামেও। সেখানে চোখের নিমিশেই নদীতে চলে যাচ্ছে ফসলী জমি ও বসতবাড়ি।
এ সময় বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের মরাবিলা গ্রামের কৃষক মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, সর্বনাশা নদীর ভাঙ্গনে আমার বসতবাড়ি চার বার সরিয়ে আনতে হয়েছে। এখন আর সরানোর জায়গা নেই। এরই মধ্যে আমার ঘরের ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোন সময় নদীগর্ভে চলেযাবে বসবাসের শেষ সম্বল টিনের ঘর ও ভিটেমাটি।
একই এলাকার বাসিন্দা আছিয়া বেগম বলেন, নদী ভাঙ্গন আমাদের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সন্তানদের নিয়ে রাত জেগে বসে থাকতে হচ্ছে। সব সময় আতঙ্কে কাটছে আমাদের দিন। কখন জানি ঘরবাড়ি সব নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায় সেই চিন্তায় এখন সময় পার করতে হচ্ছে।


নারুয়া এলাকার বাসিন্দা শেখ মহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা দিনে পর দিন সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অনুরোধ করেই যাচ্ছি তারা কারো কোন কথা শুনছেন না। শুধু পরিদর্শন ছাড়া দৃশ্যমান কোন কাজ হয়না এই এলাকায়। বর্ষা মৌসুমে যখন ভাঙ্গন তীব্র হয় তখন কয়েকটি বালুর বস্তা ফেলেই কাজ সমাপ্ত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
নারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, গত বছরের অপরিকল্পিত নদী খননের কারনেই ভাঙ্গন তীব্র হয়েছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে এই এলাকার হাজার হাজার নিরহ মানুষকে। এখনও ভাঙ্গন ঝুকিতে আছে,বসতবাড়ি, স্কুল, মসজিদ, মন্দিরসহ শত শত স্থাপনা। গত এক সপ্তাহের ভাঙ্গনে নারুয়া-সমাধিনগর পাকা সড়ক ও জামসাপুর-কোনাগ্রাম পাকা সড়ক নদীগর্ভে চলে যাওয়ায়, মরাবিলা, পুষআমলা, বিজয়নগর, আখপোটরা, পাচপোটরা, তারালিয়া, বাঙ্গরদাহ, নারুয়া, জামসাপুর, কোনাগ্রামসহ দশটি গ্রামের বাসিন্দাদের বালিয়াকান্দি শহরে যেতে হচ্ছে অন্তত ৫০ কিলোমিটার পথঘুরে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলার নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্যসহ আমরা মন্ত্রনালয় পর্যন্দ ছোটাছুটি করেছি। কোন কাজ হয় না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই। বার বার আমরা দাবী জানিয়ে আসছি কোন বালুর বস্তা নয়, একটি বড় প্রকল্প নিয়ে স্থায়ীভাবে ভাঙ্গনরোধে ব্যাবস্থা গ্রহন করতে হবে।


বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আম্বিয়া সুলতানা বলেন, আমি নতুন যোগদান করার পরই ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে দেখেছি ভাঙ্গনের অবস্থা ভয়াবহ। যেকারনে গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পত্র প্রেরন করেছি। মন্ত্রনালয় কর্তৃক দ্রæত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস ও পাওয়া গিয়েছে।
এ ব্যপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আহাদ বলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ও চত্রা নদীর ভাঙ্গনের বিষয়ে ব্যাবস্থা নিতে আমরা একটি প্রকল্পের জন্য অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছি। যার প্রেক্ষিতে সোমবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড ফরিদপুরের তত্বাবধায়কের নেতৃত্বে একটি দল ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছে। দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তারাও একটি প্রতিবেদন মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করবে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

Facebook Comments