ঠাকুরগাঁওয়ের দলিত শিশুরা উপেক্ষিত

 Posted on

ঠাকুরগাঁওয়ের দলিত শিশুরা উপেক্ষিত
সৈয়দ আব্দুল করিম, ঠাকুরগাঁও :: সমাজের অনগ্রসর দলিত সম্প্রদায় যেন চিরকাল ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দা। বন জংগল, পাহাড়-পর্বতে বিশেষ প্রজাতির প্রাণী যে ভাবে বাস করছে, তার চেয়ে অধম হয়ে কোন রকমে টিকে আছে ঠাকুরগাঁওয়ের দলিত বা হরিজন স¤প্রদায়।
উচ্চ বর্ণ বা বিশেষ শ্রেণীর মানব জাতির মল মুত্র পরিস্কারের জন্যই যেন দলিতদের সৃষ্টি এমন মন্তব্য করেছেন জেলা হরিজন নেতা দীনু দাস। এক সময় ঠাকুরগাঁও জেলার সরকারি-আধা সরকারি ও স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠানে এই জনগোষ্ঠির নারী পুরুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিল। এখন তাও নেই। দলবাজী, ঘুষ বাণিজ্য সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত এই জেলার দলিতরা। কাজের সুযোগে ঠাকুরগাঁও চিনি কল, ঠাকুরগাঁও রোড রেল ষ্টেশন এলাকায় কলোনি গড়ে ওঠেছিল। এখন সেই কলোনি নেই। এদের মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই। এখন শুধু ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে সংঘবদ্ধ ভাবে ৫০-৬০ টি পরিবার বাস করছে। জেলার অন্য উপজেলায় এদের করুণ অবস্থা। দলিত শিশুদের সরকারি ভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। ফলে এই জনগোষ্ঠির ছেলে-মেয়েরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের ওটি বয় মহাদেব দাস জানান, ইএসডিও নামে একটি এনজিও কালিবাড়ি মদভাটি এলাকায় দলিত শিশুদের জন্য স্কুল খুলেছিল। সেটিও এখন বন্ধ। তিনি আরো বলেন, জেলা শহরের কোকিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাদের ছেলে মেয়েরা ভর্তি হয়েছে। কিন্তু তাদের শিশুরা নানা ভাবে নিগৃহিত হচ্ছে। অন্য শিশুরা তাদের ছেলে মেয়েদের সুইপার বলে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। অনেকে এই দুঃখে স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। চরম দরিদ্রতার মধ্যে বেড়ে ওঠা ঠাকুরগাঁওয়ের দলিত শিশুদের জীবন মানের উন্নয়নে আলাদা করে কোন কার্যক্রম হাতে না নিলে স্কুল ছেড়ে আসা শিশুদের অবস্থার কোন পরিবর্তন হবে বলে মনে করেন না দলিত সম্প্রদায়।
– সৈয়দ আব্দুল করিম. সাংবাদিক, ঠাকুরগাঁও এবং শারি’র দলিত এন্ড মাইনরিটি হিউম্যান রাইটস মিডিয়া ডিফেন্ডার ফোরামের সদস্য।

Facebook Comments