গাইবান্ধায় বন্যায় রেললাইন নিমজ্জিত, রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

 Posted on


গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
টানা বৃষ্টি আর উজানের পানিতে গাইবান্ধায় রেললাইন ডুবে যাওয়ায় ঢাকার সঙ্গে গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিহাটের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
গাইবান্ধা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবুল কাশেম জানান, ‘সদর উপজেলার বাদিয়াখালি ইউনিয়নে বাদিয়াখালী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন চেয়ারম্যানবাড়ী মিয়াপাড়া রেলগেট এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রেললাইনে পানি ওঠায় বুধবার (১৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ট্রেন চালানো বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে গাইবান্ধাসহ উত্তরের চার জেলার সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’
পরিস্থিতি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও প্রকৌশলীরা রেললাইন পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পানি ওঠায় এবং তীব্র স্রোতে রেললাইনের স্লিপার, মাটি ও পাথর সরে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না কখন আবার ট্রেন চালু করা যেতে পারে।’
গাইবান্ধার রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী (মেস্ট) মো. মুকবুল হোসেন জানান, বাদিয়াখালি রেলস্টেশন এলাকায় রেললাইনের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে।চার থেকে ছয় ইঞ্চি ওপর দিয়ে এই পানি তীব্রবেগে প্রবাহিত হচ্ছে। এরফলে কিছু কিছু জায়গায় রেললাইনের নিচের মাটি, পাথর ও স্লিপার ধসে গেছে। এসময় সান্তাহার থেকে দিনাজপুরগামী পদ্মরাগ এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশন সংলগ্ন মিয়াপাড়া রেলগেট এলাকায় আটকা পড়ে’
বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল এবং বাঁধ ধ্বসে গাইবান্ধার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলা শহরে পৌরসভার অন্তত পাঁচটি ওয়ার্ড বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ভয়াবহ বন্যায় ভাসছে গাইবান্ধা। সেইসাথে আশ্রয়, বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটসহ দুর্ভোগ বেড়েছে বানভাসী মানুষের। এদিকে গাইবান্ধার সকল নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ২১ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১৪৩ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত ফুলছড়ির তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১৪৩ সে.মি., ঘাঘট নদীর পানি শহরের নতুন ব্রীজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৯ সে:মি: উপর দিয়ে বইছে। তবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি কমে বিপদসীমার ১৭ সে:মি: নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


জেলার বন্যাকবলিত চার উপজেলার ৩০০টি গ্রামের প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার অনেক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, গবাদি পশু নিয়ে আশেপাশের উচু স্থান ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। পানির তীব্র স্রোতে ঘাঘট রক্ষা বাঁধসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেরী বাঁধগুলোরে বিভিন্ন পয়েন্টে ধ্বস দেখা দিয়েছে। ফলে জেলার ফুলছড়ি, সাঘাটা, সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষজন সবথেকে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন গবাদি পশু নিয়ে। গবাদি পশুর থাকা এবং খাবার চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া সংকট সৃষ্টি হয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির।
এদিকে সোমবার (১৫ জুলাই) রাত থেকে গাইবান্ধা শহরের বেশকিছু এলাকায় বন্যার পানি ঢুকতে শুরু করেছে। শহরের পূর্বপাড়া, কুঠিপাড়া, জুম্মাপাড়া, সবুজপাড়া, মুন্সিপাড়া, বানিয়ারজান, ডেভিড কোম্পানি পাড়া, ব্রীজরোড কালিবাড়ী পাড়ায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া গাইবান্ধা-বালাসীঘাট রাস্তার পূর্বপাড়া, গাইবান্ধা-লক্ষ্মীপুর রাস্তার ফারাজী পাড়া এলাকায় রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছে শহরবাসী। অপরদিকে গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের কয়েকটি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে গাইবান্ধা শহরবাসী। এছাড়া বাঁধটির ডেভিট কোম্পানী পাড়া এলাকায় যেকোনো মূহুর্তে পানি উপচে পড়ারও আশঙ্কা করছেন তারা।
চরাঞ্চল ও নদী বেষ্টিত চারটি উপজেলার বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে, ফলে ২৪৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। ৮৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ফুলছড়ি উপজেলার তিনটি ও সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া ৩৫টি বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।।

Facebook Comments