কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে শিপ্রা রানী? 

 Posted on

রিপন মজুমদার, বৃহত্তর নোয়াখালী থেকে : নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়ন বারই পাড়া গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র কুমারের সন্তান শিপ্রা রানী দে, মাতা মৃত:আরতী বালা দে, বিগত ১৯৭৮সালে রাতে দুষ্কতিকারীদের হাতে রাতের অন্ধকারে মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র কুমারকে নিজ গৃহে গুলি করে হত্যা করে। তিনি মৃত্যু কালে ২ পুএ ও ৪ মেয়েকে রেখে যান। অতপর তার বড় ছেলে প্রদীপ কুমার দে ও ১৯৮৮ সালে দুষ্কৃতিকারীদের হাতে প্রাণ হারান। তার মৃত্যুপর তার  বড় ২ মেয়ে মিরা রানী দে ও ইরা রানী দে কে তার স্ত্রী  আরতী বালা দে বিবাহ প্রদান করে। বাকী ২মেয়ে ও এক ছেলে কে নিয়ে তার স্ত্রী মানবেতর জীবন যাপন করে।এমন অবস্থায় এলাকার কিছু কুচক্রী মহলের প্রলোবনে মৃত রবীন্দ্র কুমারে ছোট ছেলে প্রবীর কুমার দে, কে গত ০৫/০৭/১৯৯৯ ইং তারিখে ধমান্তরিত হয়ে সাইফুল ইসলাম নাম ধারন করে এক মুসলিম মেয়েকে বিবাহ করে।
রবীন্দ্র কুমারের স্ত্রী আরতী বালা দে, তার স্বামীর রেখে যাওয়ার সম্পওি ভাগ বন্টন করে দেওয়ার জন্য তার ছোট ছেলে প্রবীর কুমার দে, কে বললে সে কোন সম্পওি দেবে না বলে নিষেধ করে দেয়। এবং তার স্ত্রী  ও দুই মেয়েকে বাড়ি থেকে বাহির হয়ে যেতে বলে।পরে মৃত রবীন্দ্র কুমারে স্ত্রী কোন উপায় খুজেঁ না পেয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ কল্যান ট্রাষ্টের সাবেক সভাপতি বাবু সি আর দওের সাথে দেখা করেন। তিনি আরতি বালাও সন্তানের মুখে সব কথা শুনে, তিনি ঢাকা জগন্নাথ হলের অধ্যক্ষ বাবু নিম চন্দ্র ভৌমিকের কাছে পাঠালেন।ওনার সার্বিক সহযোগীয়, তিনি তাদের কে তৎকালীন প্রানী সম্পদ মন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তীর বাসায় পাঠালে। শিপ্রা বলেন, ন্ত্রী মহোদয় আমাদের সব কথা শুনে আমাদের কে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে ২০০৩ সালে সাক্ষাৎ করান। যার পএ সংখ্যা ছিলো ১৪.২২.১৬.০০.০০.২০০৩ ৯৯৬ তারিখ ২৯/০৭/২০০৩ বিষয় ছিলো বেদখন কৃত জমি ফেরতও বিবাহ যোগ্য দু মেয়ে সহ আরতী বালা জীবনের নিরাপওা প্রদানের প্রসঙ্গে। আমরা আমাদের সমস্ত দুঃখ কষ্টের কথাও আরতী বালা মৃত স্বামীর সম্পওি রক্ষার জন্য ওনার সার্বিক সহযোগীতার আকুল আবেদন করে। কিন্তুু দুঃখের বিষয় এ সমস্ত বিষয় অবগত করার পরও মৃত মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র কুমারের স্ত্রী আরতী বালা  কোন ধরনের সহযোগীতা পায় নি।
পরে, আরতী বালা দে অসহায় হয়ে নোয়াখালী হিন্দু বৌদ্ধ কল্যান ট্রাষ্টের সভাপতি নোয়াখালী যুগ্ন জেলা জজ এর সিনিয়র আইন জীবি এ্যাডভোকেট সুধীর সাহার সরণা পন্য হন। ওনার পরামর্শে আরতী বালা দে তার স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পওির জন্য আমার ধর্মান্তরিত ছেলেকে বিবাদী করে করে ২০০৭ সালে নোয়াখালী ০১ নং যুগ্নজেলা জজ আদালতে একটি বন্টনের মোকদ্দমা দায়ের করেন। ২৫৩ নং খতিয়ানে জমি বন্টকের প্রার্থনা করেন। উক্ত মোকদ্দমা চলমান অবস্থায় রবীন্দ্র কুমারের স্ত্রী আরতী বালা দে, ২০০৮ সালে ব্রেইন ষ্টোক করে ঢাকা আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ও সমরিতা হাসপাতালে দীর্ঘ দিন চিকিৎসা দিন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। দুই হাসপাতালে চিকিৎসায় ব্যয় প্রায় ছয় লক্ষ টাকার মত আসে। তখন রবীন্দ্র কুমারের সেজ মেয়ে শিপ্রা রানী দে অসহায় হলেও তার গর্ভধারিনী মাতাকে বিনা চিকিৎসায় তার চোখের সামনে মারা যাবে সে সইতে পারি নি। আরতী বালার মৃত্যুর পর শিপ্রা রানী একজন অবিবাহিত অসহায় নারী হিসাবে  মামলার বাদী হন। এবং নোয়াখালী জেলা সোনামুড়ি উপজেলায় জয়াগ বাজারে অবস্থিত, গান্ধী আশ্রম ট্রাষ্টের, সচিব, মহিয়সী নারী ঝর্না ধারা চৌধুরীর, সার্বিক সহযোগীতায় শিপ্রা অএ মোকদ্দমা পরিচালনা করে। দীর্ঘ চার বছর অপেক্ষার পর বিজ্ঞ আদালত ২০১২ সালে বাদী এবং বিবাদী বিজ্ঞ আইন জীবির উপস্থিতিতে দুই তরফা শুনানী সম্পন্ন করে।
পরে বিজ্ঞ আদালত রায়ের দিন ধার্য্য করে। বিজ্ঞ আদালতের রায়ে বাদী শিপ্রা রানী দে ১৬০- ডিং ভূমি রায় পায়। উক্ত আদালত রায়ের পর কোর্ট কমিশন নিযুক্ত করে বাদী শিপ্রা রানী কে ১৬০ ডিং ভূমি বুঝাইয়া দেয়। কমিশন রিপোর্ট বিজ্ঞ আদালতে জমা আছে।পরে তার ধর্মান্তরিত ভাই প্রবীর চন্দ্র দে,ওরূপে সাইফুল ইসলাম বিজ্ঞ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে মহার্মান্য হাই কোর্ট ডিবিশনে আপিল করে। দীর্ঘ ০৭ বছর মামলাটি হাই কোর্টে আপিল বিভাগে চলমান। তাদের উদ্দের্শ্য হচ্ছে। অসহায় নারী শিপ্রাকে হয়রানী করা ও তার অর্থব্যয় করা। শিপ্রার ধর্মান্তরিত ভাই এবং তার সহযোগী ভূমি দস্যুরা সকল সম্পওি জবর দখল করে ভোগ করে শিপ্রা রায় পাওয়ার পরও। শিপ্রা রানী পিতৃ সম্পদ রায় পাওয়ার পরও তাকে কোন সম্পদ বিক্রি করতে ও ভোগ করতেও দিতেছে না তারা। পিতৃ সম্পদ থাকা সত্বেও শিপ্রা রানীর অনাহারে,অনিন্দ্রায় জরাজিন্ন এক ঘরে দুঃসহ দিন যাপন করে। শিপ্রা রানীর মা আরতী বালা মৃত্যুর আগে এবং মৃত্যুর পর  শিপ্রা রানী ও তার আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা দার দেনা করে সম্পদ রক্ষা জন্য লড়াই করে চলছে। মৃত্যুর আগে মায়ের দার করা টাকাও বর্তমানে শিপ্রার মাথায় চাপে।
বর্তমানে মহামার্ন্য হাই কোর্টে আপিল বিভাগে অঘঊঢ ১৫ নাম্বার কোর্টের মহামার্ন্য বিচারপতি আবদুল হাকিম ও ফাতেমা নাজিব এর যৌথ বেজ্ঞে বিচারাধীন রয়েছে যার নাম্বার ঋঅ ৪৪২/২০১২, বাদী পক্ষের বিজ্ঞ আইন জীবি নিখিল কুমার সাহার অসহযোগীতার কারণে মামলাটির মূল বিচার কাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বিবাদী শিপ্রা রানী কে আইনী সহযোগীতা দিচ্ছেন হাই কোর্টের  এ্যাডভোকেট বাবু তুষার কান্তি রায়। এমনত অবস্থায় শিপ্রা রানী অসহায় ও কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করে। অসহায় এই নারী পাশে নেই কোন সহৃদয় বান মানুষ,  ইউনিয়নের কোন প্রকার সরকারী ভাবে আসা চেয়ারম্যানের অধীনের থাকা সরকারী সাহায্য সহযোগীতা থাকা সত্বেও পায় না শিপ্রা। অসহায় হয়ে ২৩/১১/২০১৮ তারিখে ডাক যোগে রেজিষ্টিভাবে একটি পএ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দের্শ্যে প্রেরণ করে শিপ্রা। কিন্তুু দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও পায় নি।শিপ্রা রানী পএের কোন উওর।  বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র কুমারে মেয়ের একটাই আকুল চাওয়া গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যেন তাকে সহানুভূতি হাত বাড়িয়ে দিয়ে তার ন্যায় বিচারে পাওয়াতে সহযোগীতা করে।
Facebook Comments