কাল প্রত্যাশিত বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

 Posted on

স্বপন মির্জা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ::
সিরাজগঞ্জে যমুনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এ নিয়ে চলছে এখন শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। উত্তররাঞ্চলের সাথে সাড়া দেশ এবং দক্ষিন এশিয়ার কয়েকটি রাষ্ট্রের সাথে রেল যোগাযোগ সমৃদ্ধ করতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের বড় এ রেল সেতুর নির্মান কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ নিয়ে এখন অনুষ্ঠান স্থল বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড় সয়দাবাদে এলাকা নানা ভাবে সাজানো হচ্ছে।

জানা যায়, যমুনায় বঙ্গবন্ধুর সেতুর উপর চাপ কমনোর পাশাপাশি দক্ষিন এশীয় রাষ্ট্র গুলোর সাথে রেল যোগাযোগ একিভুত করতে সেতুর ৩শ মিটার উত্তর দিয়ে আরেকটি আলাদা ডুয়েল গ্রেজ রেল সেতু নির্মান করতে যাচ্ছে সরকার। জাইকা ও সরকারী অর্থায়নে রোববার সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার এই সেতু নির্মান কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে সভাপতিত্ব করবেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। অনুষ্ঠানে থাকবেন মন্ত্রী পরিষদ সদস্যগন, দেশী-বিদেশী কুটনিতিক ও সাংসদ বৃন্দ। এজন্য অনুষ্ঠান স্থলে চলছে ফলক নির্মান সহ যাবতীয় কাজ।

সেতুটির নির্মান পরিকল্পনা থেকে জানা যায়, এখন পর্যন্ত দেশের বৃহৎ স্থাপনা বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে ৩০০ মিটার উত্তর দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরাল ভাবে নির্মান দেশের বৃহৎ এই রেল সেতু। ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মান করছে জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা জাপানের সহযোগীতা সংস্থা জাইকা দিচ্ছে। বাকিটা সরকার অর্থায়ন করছে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের নির্মান কাল নির্ণয় করা হলেও সংশোধিত মেয়াদ আরো ১ বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সালের আগষ্ট মাস নির্ধারন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যমুনা নদীতে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর যেমন চাপ কমবে। তেমনি ঝুঁকিও হ্রাস পাবে বঙ্গবন্ধু সেতুর।

বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দিয়ে সমান্তরাল ভাবে গাড়ি ও রেল চলছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য খুবই ধীরগতিতে চলে রেল কোচ। যার অনুমোদিত গতিবেগ ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার। শুধু তাই নয়, সেতুর ওপর চলাচলের আগে দুই প্রান্তেই বিরতি দিয়ে ইঞ্জিন চেক করতে হয় কোচগুলোর অন্তত আধা ঘন্টা সময় লেগে থাকে। অথচ যমুনা নদীর ওপর পৃথক ভাবে বঙ্গবন্ধু রেলসেতু নির্মাণ হলে সে ঝুঁকি আর থাকবে না। সময়ও কমে আসবে। ১০০ কিলোমিটার গতী নিয়ে ট্রেন যাবে ও আসবে। এতে যাত্রীদের সময়ের সাশ্রয় হবে। জ্বালানি খরচও কমবে রেল বিভাগের। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গ থেকে পণ্য পরিবহনব্যবস্থা সহজ হবে, কমবে পণ্য পরিবহন খরচ। যা ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে ও সামাজিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এটা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছে সরকার সহ সচেতন মহল।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানান, ডুয়েলগেজ ডাবল-ট্র্যাকের এ সেতুটি হবে দেশের সবচেয়ে বড় রেলসেতু। এটি রাজধানীর সঙ্গে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও উন্নত করবে। এছাড়া ট্রেন শিডিউল বিপর্যয় কমাতেও এ সেতু ভুমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, বার্মার সাথে ক্যানেকটিভিটি তৈরী হবে। যাতে পাশ্ববর্তী দেশের সাথে যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

এই সেতুর উদ্ভোধন উপলক্ষ্যে সিরাজগঞ্জ জেলা শহর ও অনুষ্ঠান স্থল পুরো সয়দাবাদ মহাসড়ক জুড়ে নানা ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। সকলের মুখেই এই সেতু নিয়ে এখন নানা আলোচনা। এ ব্যাপারে সয়দাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নবিদুল ইসলাম, জেলা অটো টেম্পু অটোরিক্সা সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, ইউপি সদস্য আব্দুল মমিন জানান, এটা আমাদের বহু প্রত্যাশিত দাবী ছিল। আমাদের সিরাজগঞ্জ তথা উত্তরাঞ্চল বাসী যখন ট্রেনে চেপে ঢাকায় যাতায়াত করতো তখন বঙ্গবন্ধু সেতুতে উঠা মাত্রই একটা আতংক কাজ করতো। তাই আমাদের সবার দাবী ছিল এখানে বিকল্প একটি ট্রেন সেতু। সেই স্বপ্নের সেতুটি অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষন উদ্যোগে নির্মিত হতে যাচ্ছে। এজন্য তাকে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।

এদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সিরাজগঞ্জ বেসরকারী অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিচালক শেখ মনোয়ার হোসেন জানান, যমুনা নদীর উপর সড়ক ও রেল সেতু নির্মানের জন্য জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাপান সফর কালে সেতু নির্মানের দাবী জানিয়ে একটি জরিপ চালিয়ে ছিল। তবে ঘাতকদেও হাতে বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নিহত হওয়ার পর সেতু নির্মান বন্ধ হয়ে যায়। দেশ যায় অনেক পিছিয়ে। তবে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন গতিধারায় সেই সেতুগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে। বিশেষ করে রেল সেতুটি নির্মিত হলে দেশ রেল যোগাযোগে অনেক এগিয়ে যাবে। তৈরী হবে নয়া অর্থনীতির মেরুকরন। এজন্য সিরাজগঞ্জ বাসী হিসেবে আমরা বেশি উচ্ছ্বসিত। প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের পক্ষ হতে বিনম্র শ্রদ্ধা।

Facebook Comments