কালিগঞ্জে নববধুকে ভারতে পাচারের অভিযোগ: স্বামীসহ চারজনের নামে মামলা

 Posted on

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা
পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে ভারতে পাচারের অভিযোগে স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে শনিবার থানায় মামলায় হয়েছে। গত ৮ জুলাই সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপাজেলার কুমারখালি গ্রামের এক দিনমজুর সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলা করেন। বিচারকের নির্দেশে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান হাফিজুর রহমান এ মামলা রেকর্ড করে উপপরিদর্শক জিয়ারত আলীকে মামলার তদন্তভার দেন।
মামলার আসামীরা হলেন, আশাশুনি উপজেলার কোদণ্ডা গ্রামের জুয়াড়ী শহীদুল ইসলাম, তার ছেলে সোহাগ, দেবহাটা উাপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের চন্দ্রকান্ত মল্লিক ও তার ছেলে নিশিকান্ত মল্লিক।
মামলার বিবরনে জানা যায়, গত বছরের ৬ ডিসেম্বর কুমারখালির এক দিনমজুর তার মেয়েকে দেবহাটা উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের চন্দ্রকান্ত মল্লিকের ছেলে চিরঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে হিন্দু ধর্মমতে বিয়ে দেন। বিয়ের সময় নগদ তিন লাথ টাকা, এপাচাচি মোটর সাইকেল, ফ্রিজ, আলমারি, ছয় ভরিওজনের সোনার গহণাসহ ১০ লাখ টাকা মূল্যের জিনিসপত্র যৌতুক হিসেবে দেন। বিয়ের তিন মাস যেতে না যেতেই বাবার কুপরামর্শে আরো পাঁচ লাখ টাকা শ্বশুরের কাছে চায় চিরঞ্জিত। বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে অপারগতা প্রকাশ করায় স্ত্রীকে নির্যাতন করতো চেরঞ্জিত ও তার বাপের বাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে স্ত্রীকে মারপিট করে বাপের বাড়িতে তাড়িয়ে দেওয়ার ১০ দিন পর ২৩ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বান্ধাবীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার সময় পরিতোষ মণ্ডলের বাড়ির সামনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের উপর থেকে আশাশুনি উপজেলার কোদণ্ডা গ্রামের কুখ্যাত জুয়াড়ী সোহাগ হোসেন ও চিরঞ্জিত মাইক্রোবাসযোগে ওই দিনমজুরের মেয়েকে অপহরণ করে ভারতে পাচার করা হয়। পরে জুয়াড়ী শহীদুল ইসলাম ও চন্দ্রকান্ত মল্লিকের কাছে গেলে যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় তারা ওই মেয়েকে ভারতে পাচার করেছেন বলে জানিয়ে দেন। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে মেয়েকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে আদালতে মামলা করেন।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান হাফিজুর রহমান রোববার রাত ৯টার দিকে এ প্রতিনিধিকে জানান, ভিকটিম উদ্ধার ও আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য সর্বাত্বক চেষ্টা চালানো হবে।

Facebook Comments