কমলগঞ্জে কাত্যায়নী পূজা সম্পন্ন

 Posted on

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর চা বাগানে সনাতনী ভক্তবৃন্দের আয়োজনে কার্তিক মাসব্যাপী ব্রত পালন শেষে গঙ্গাস্নান, পূজার্চ্চনা ও মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে চা শ্রমিকদের ২০তম কাত্যায়ানী পূজা।

এ উপলক্ষে সোমবার রাত থেকে বাগানের বিভিন্ন মন্দিরে নাম কীর্তন শুরু হয় এবং মঙ্গলবার ভোর রাত থেকে বিভিন্ন চা বাগানের কয়েক হাজার ভক্তরা গঙ্গাস্নান ও পূজার্চ্চনা করতে মাধবপুরের হীরামতি এলাকায় ধলাই নদীর তীরে সমবেত হয়। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গঙ্গাস্নান ও পূজার্চ্চনা চলে সকাল ৮ টা পর্যন্ত ।

মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন- জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. হেলাল উদ্দিন, মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু, মাসিক চা মজদুর সম্পাদক সীতারাম বীন, সাংবাদিক আসহাবুজ্জামান শাওন, ইউপি সদস্য কৃষ্ণলাল দেশওয়ারা, সুচিত্রা বালা নুনিয়া, মাধবপুর চা বাগানের টিলাক্লার্ক কংকন ছত্রী, পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি দেওনারায়ন পাশি প্র্রমুখ।

গঙ্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্যামদাস পানিকা ও সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ ভর জানান, ভগবত পুরাণ গ্রন্থের দশম স্কন্দের দ্বাবিংশ অধ্যায়ে কাত্যায়ানী ব্রতের উল্লেখ আছে। এই কাহিনী অনুযায়ী ব্রজের গোপীগণ কৃষ্ণকে পতিরূপে কামনা করে সমগ্র মাঘ মাস জুড়ে এই ব্রত করেন। এই একমাস তারা মশলাবিহীন খিচুড়ি ও সিদ্ধজাত খাবার খেতেন এবং সকালে ধলাই নদীতে স্নান করে নদীর তীরে মাটির কাত্যায়ানী মূর্তি গড়ে দেবীর পূজা করা হয়।

এরপরই নদীতে স্নান করে ভক্তরা বাড়ি ফিরে যান। মনোমতো স্বামী প্রার্থনায় গত এক মাসব্যাপী উপবাস করে কাত্যায়ানী ব্রত পালন করা হয়েছে। একমাস তাকে চন্দন, ধূপ, দ্বীপ ইত্যাদি দিয়ে পূজা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ভোর রাত থেকে স্নান করে ভেজা কাপড়ে খোদিত কাত্যায়নীর মূতির্র সামনে চন্দন, দ্বীপ, ফল, পান, নবপত্র, মালা ও ধূপ দিয়ে পূজা করেন হাজার হাজার চা শ্রমিক ভক্তরা। পরে উপস্থিত সকল ভক্তবৃন্দের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০ বছর যাবত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। তবে এবার কোভিড-১৯ এর কারণে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার জন্য সীমিত পরিসরে পালন করা হয়েছে।

Facebook Comments