আবাসন সঙ্কটে নড়াইলের দলিত সম্প্রদায়

 Posted on

তানভীর আহমেদ রুবেল :: দূর থেকে দেখলে মনে হয় একটি খুপড়ি ঘর আর একটি খুপড়ি ঘরের মধ্যে ঢুকে গছে। এক ঘরে বাস করছে অনেক মানুষ। মা-বাবার সঙ্গে ছেলেমেয়ে, ছেলে ও ছেলের বউয়ের বসবাস এক ঘর। যুগ যুগ ধরে এভাবেই চলছে তাদের জীবন। নড়াইলের লক্ষ্মীপাশার পৌর এলাকার বেপারীপাড়া, যেখানে প্রায় ৫০টি ঘর আছে দলিত সম্প্রদায়ের। ঢোকার পথে ময়লা-আর্বজনার স্তুপ। ভোর না হতেই দেখা যায় রাস্তার উপরই বসে অনেকেই কুলা চালুনী তৈরি করছে। নোংরা জায়গায় শিশুরা প্রাতঃক্রিয়া করছে। অধিকাংশ বাসিন্দার মূল কাজ পৌরসভার ময়লা-আর্বজনা পরিস্কার করা, কেউ আবার সেলুন ও জুতা মেরামতের কাজ করেও সংসার চালাচ্ছে। বংশপরম্পরায় তারা এ কাজই করে আসছে।

তাদের এই আবাসনের চারদিকে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। নর্দমা পরিস্কার হয় না দীর্ঘদিন। আবাসন ছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকার সংকটতো আছেই। তাদের ছেলেমেয়েদের বাইরে লেখাপড়ার সুযোগ কম।

সবচেয়ে বড় সমস্যা তাদের আবাসন সমস্যা। তারপরেও ভূমির মালিকানা নিয়ে রয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। তাদের জন্য সরকারি ভাবে কোনো আবাসনের ব্যবস্থা নেই। লোহাগড়া পৌরএলাকার মোচড়া গ্রামে একটি আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় আবাসন থাকলেও দীর্ঘদিন মেরামত না করায় তার অধিকাংশ ঘরই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি নামলেই পানিতে ঘর ভেসে যায়। স্যাঁতসেতে হয়ে যায় কাঁচা মাটির ঘর। যার ফলে প্রায়ই অসুস্থ্য হয়ে পড়ে শিশুসহ অনেকে। একই অবস্থা নড়াইল জেলার অন্যান্য সরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা আবাসনগুলো।

দলিতরা যুগ যুগ ধরে বৈষম্যের শিকার এটা সবারই কমবেশি জানা। এখন দলিত জনগোষ্ঠীর নেতা বা সংশ্লিষ্ট উন্নয়নকর্মীরা বলছেন, অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আয় বৃদ্ধিমূলক কাজে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ দরকার।

দলিতদের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে বৈষম্যবিরোধী আইন করতে হবে। তাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোটা নির্ধারণের মাধ্যমে তাদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি দলিতদের জন্য সব ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের বিষয়ে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা করার আগে আদমশুমারিতে তাদের সঠিক পরিসংখ্যান থাকা জরুরি এবং তাদের আবাসন সংকট দুর করে প্রকৃত ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করতে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন স্থানীয় দলিত সম্প্রদায় ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ।

Facebook Comments