আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাচ্ছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের উৎপলের শর্টফিল্ম

 Posted on

মঈন উদ্দিন আহমেদ, হবিগঞ্জ : কোভিড-১৯ এর মহমারী ভিত্তি করে ভারতের মণিপুর রাজ্যে মণিপুরী ভাষায় ৩ থেকে ৫ মিনিট এর ‘প্রথম খাপরী ইন্টারন্যাশনাল’ মণিপুরী শর্ট ফিক্সন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এওয়ার্ড লিস্টে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাচ্ছেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের উৎপলের তৈরি ফিল্ম। ফিল্মের স্টোরি লিখে তাকে সহযোগিতা করেছেন রংপুর মেডিকেলে অধ্যয়নরত ভারতীয় নাগরিক নিংথোজম বিদ্যারাণী।

জানা যায়, সোরাইজম উৎপল সিংহ চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত। সোরাইজম উৎপল সিংহের তৈরি ফিল্মটি গত ১৭ ফেব্রæয়ারি ২য় ধাপের বাছাই পর্বের ৪টি এওয়ার্ডের লিস্টে স্থান পাওয়ায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

মণিপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন ফেস্টিভ্যালের চেয়ারম্যান ডাঃ এস মনউতন সিং। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেস্টিভ্যালের ডিরেক্টর কে এইচ বিশ্বনাথ মিত্রা, কনভেনর রাকেশ নাওরেম এবং কনশালটেন্ট এন জয়কুমার সিং। ফেস্টিভ্যালের পুরস্কার বিতরণী ২১ ফেব্রæয়ারি বেলা ১ টায় মেইপা ভ্যান্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

ফিল্ম সম্পর্কে উৎপল সিংহ বলেন, কোভিড নিয়ে নিজের মেধায় যতটুকু পেরেছি ততটুকু কাজ করতে চেষ্টা করেছি। আমার ফিল্ম আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাচ্ছে বলে আমি আনন্দিত। কোভিড-১৯ মহামারীটি বিশ্বজুড়ে মানব সমাজে মারাত্বক দুর্ভোগ নিয়ে এসেছে। অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সময়োপযোগী পদক্ষেপের অভাব সর্বত্র অনেক কষ্ট এবং উচ্চতর হতাহতের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। সঠিক ব্যবস্থা এবং প্রস্তুতি সহ একটি প্রতিক্রিয়াশীল সিস্টেম করোনার ভাইরাসের শিকার হিসাবে অনেক প্রিয় এবং নিকটস্থ লোকের ক্ষতি এড়াতে পারে।

এই চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের এক ব্যক্তির গল্প বর্ণনা করা হয়েছে যিনি মহামারী চলাকালীন পরিবারের জন্য শেষটুকু করার চেষ্টা করছেন। এই তালিকায় বিদেশে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের গল্পগুলিও প্রকাশিত হয়েছে যারা তালাবদ্ধ হওয়ার ফলে একাডেমিক প্রতিষ্ঠান এবং দরিদ্র পরিবারগুলোর কোনও সমর্থন ছাড়াই নিজেরাই ছেড়ে গিয়েছিল। তবুও ফিল্মটি দেখিয়েছে যে কীভাবে লোকেরা অভাবী ব্যক্তিদের জন্য সম্ভাব্য সকল প্রকারের সাহায্যের হাত প্রসারিত করার চেষ্টা করে। শেষ অবধি রক্তের সম্পর্কের মাধ্যমে সংবেদনশীল সংযুক্তি বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারীর মতো বড় বিপর্যয়ের সময় সীমান্ত পেরিয়ে মানুষকে সংযুক্ত করে চলেছে।

সোরাইজম উৎপল সিংহ আরো বলেন, গল্পটি লিখে দিয়ে ভারতীয় নাগরিক ও বর্তমানে রংপুর মেডিকেলে অধ্যয়নরত নিংথোজম বিদ্যারানী আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন। সোরাইজম উৎপল সিংহ তার প্রতিও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

উল্লেখ্য, সোরাইজম উৎপল সিংহ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অব হবিগঞ্জের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং চুনারুঘাট ফটোগ্রাফি সোসাইটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Facebook Comments