অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন বাস্তবায়নে প্রয়োজন কার্যকরী পদক্ষেপ : সিরাজগঞ্জে ৪ হাজার মামলার মধ্যে নিস্পত্তি সামান্য, রয়েছে জটিলতা

 Posted on

স্বপন মির্জা, সিরাজগঞ্জ :: ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর বাংলার অনেক সনাতন ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘু মানুষ তাদের জায়গা জমি সহ যাবতীয় সহায় সম্পদ রেখে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে চলে যায়। তাদের রেখে যাওয়া বিপুল পরিমান সম্পত্তি সে সময়কার পাকিস্তান আমলে ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসাবে তালিকাভূক্ত করে সরকার। এরপর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনের পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে নানা দিক দীর্ঘ দিন পর্যবেক্ষন করে সরকার শত্রু সম্পত্তি কথাটি বাদ দিয়ে ‘অর্পিত সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষনা করে। পরে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন আইন প্রণয়ন করে। যার কারনে সাড়া দেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জে পড়ে থাকা হাজার-হাজার একর অর্পিত সম্পত্তি হিন্দু জনগোষ্ঠীর ফিরে পাবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন আইনে ৩০০ দিনের মধ্যে মামলা নিস্পত্তি করে ভুমি মালিককে জমি বুঝিয়ে দেবার কথা থাকলেও কয়েক বছরেও তা বুঝে পাচ্ছেনা। সিরাজগঞ্জে এ সংক্রান্ত প্রায় ৪ হাজার মামলার মধ্যে নিস্পত্তি হয়েছে সামান্য। তবে মামলায় যারা পক্ষে রায় পেয়েছেন তারাও তহসিলদারদের নানা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কেউ-কেউ জমি বুঝে পেলেও মোটা অংকের টাকা খরচের বিনিময়ে।
জানা যায়, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ দিন পর্যন্ত। আর তা শেষ হয় তাসখন্দ চুক্তির মাধ্যমে। এ চুক্তিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী দেহত্যাগ করেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান যুদ্ধের পর পরই পাকিস্তান প্রতিরক্ষা অধ্যাদেশ ও পাকিস্তান প্রতিরক্ষা বিধি জারি করেন। তখন তদানীন্তন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের কতিপয় বুদ্ধিমান কর্মকর্তার পরামর্শে এবং ভূমি প্রশাসনের কর্মচারীদের প্ররোচনায় পাকিস্তান থেকে দেশত্যাগ করা সংখ্যালঘুদের জায়গা-সম্পত্তিকে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে রাতারাতি ইজারা নিয়ে দখল করে ফেলা হয়। এ আইনের সুবিধাভোগী ও দখলকারীরা মূলত বেশির ভাগ সরকারি উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, কানুনগো, তহশিলদার ইত্যাদি। তবে রাজনৈতিক কর্মীরাও বিভিন্ন সময়ে বন্ধুভাবে আবার কখনো সুযোগের সদ্ব্যবহার করে এসব সম্পত্তির মালিক বনে যায়। অবশ্য এভাবেই এ দেশে ভূমিদস্যুদের উত্থান ঘটে। সংক্ষেপে বলা যায়, এ কালাকানুন পাকিস্তানে বসবাসরত সংখ্যালঘুদের জীবনে এক অন্ধকার যুগের সূচনা করে, যা ৫০ বছর ধরে সমান তালে ও তৎপরতায় বহাল আছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এ অঙ্গনে বিশেষ কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। পান্তর বিভেদ ও হিংসাকে দীর্ঘায়িত এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। শুধু শত্রু সম্পত্তিকে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে নামকরণ করেছে।
ড. আবুল বারকাতের গবেষণালব্ধ প্রকাশনা, ‘বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের অবিরাম বঞ্চনার কাহিনী’ এর এর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৬৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ১২ লাখ সংখ্যালঘু গৃহস্থালি পরিবার ও ৬০ লাখ লোক শত্রু/অর্পিত সম্পত্তি আইনের মাধ্যমে সরাসরি ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা ২৬ লাখ একর জমি হারিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, এ কালাকানুন একটি অবিরাম বঞ্চনার কাহিনী। যা সাম্প্রদায়িক মানসিকতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। যা হলো এ জনপদের ঐতিহাসিক ভাবধারার পরিপন্থী।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর এ আইন সংশোধন করে সংখ্যালঘুদের ওয়ারিশ, যারা স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে বসবাস করছেন, তাদের সম্পত্তি ফেরতদানের উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু এ মহাপ্রকল্প মনোযোগের অভাবে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে সংখ্যালঘুদের দাবির মুখে পুনরায় বিষয়টি বিবেচনায় আনে আওয়ামী লীগ। তবে চার বছর সময় লাগে এ কাজ শুরু করতে। অবশেষে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন ২০১১ সালে জারি করে। এ আইনে ‘ক’ ও ‘খ’ ২টি তফসিল তৈরি করা হয় এবং অর্পিত সম্পত্তি সুরাহা করার জন্য প্রতিটি জেলায় তিন সদস্য বিশিষ্ট ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরই মধ্যে ছয় লাখেরও অধিক মামলা হয়েছে এসব ট্রাইব্যুনালে। কিন্তু নিষ্পত্তির সংখ্যা ১ শতাংশের কম। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জে এ সংক্রান্ত প্রায় ৪ হাজারের মত মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নিস্পত্তি হয়েছে যতসামান্য। তবে যারা মামলায় পক্ষে রায় পেয়েছেন তারাও তহসিলদার সহ প্রশাসনের দ্বারা নানা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কেউ-কেউ জমি বুঝে পেলেও মোটা অংকের টাকা খরচের বিনিময়ে। এমন অবস্থা হলে আরো বেশ কয়েক বছর লেগে যাবে এসব মামলা নিরোসন হতে বলে জানিয়েছেন, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গোপিনাথপুরের বাসিন্দা সুধীর চন্দ্র। তিনি জানান, সরকার কালা আইন বাতিল করে সনাতন ধর্মালম্বীদের পুর্বপুরুষদের জমি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছে তা আসলেই প্রশংসার দাবীদার। আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবীর প্রতিফলনে কাজ করছেন তারা। তবে অর্পিত সম্পত্তি নিস্পত্তি আইনে যারা নিজেদের জমি ফিরে পেতে মামলা যারা করছে তারা প্রশাসন সহ তহসিলদারদের দ্বারা নানা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। এক্ষেত্রে অর্থ বিনিয়োগ ছাড়া কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব না। তার পরও আইন অনুযায়ী ৩০০ দিনের মধ্যে নয়। এক্ষেত্রে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।
অবশেষে ২০১৩ সালে গণদাবির মুখে ‘খ’ তালিকা বাতিল করা হয়। তবে ২০১২ সালে দুবার ও ২০১৩ সালে দু’বার সংশোধনী আনা হয়। তদানীন্তন ভূমি মন্ত্রী ও আইন মন্ত্রী বিষয়টি বুঝতে চেষ্টাও করেননি অথবা বোঝার মতো জ্ঞান তাদের ছিল না। এবারো ভূমিমন্ত্রী, ভূমি সচিব ও আইনমন্ত্রী কেন এই সপ্তম সংশোধনী আনা হয়েছে, তার জবাব দিতে পারেননি বলে শোনা যায়। তাই বিষয়টি হাস্যকর ও রহস্যজনক। এবার সপ্তম সংশোধনী আনার উদ্দেশ্য ছিল অনেক ভয়াবহ, বিষয়টিকে আরা জটিল করার শামিল এবং বাংলাদেশী দাবিদারকে চিরতরে বঞ্চিত করার সুক্ষ্ম কারচুপি। শোনা যায়, সংশোধনী প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্পিত সম্পত্তি আইনের ১৮(ক) ধারায় সংশোধনীতে লিমিটেশন অ্যাক্টের সেকশন-৫ প্রযোজ্য হবে না বলে প্রস্তাব করা হয়েছে, যার অর্থ হচ্ছে- মামলার আপিল চলবে বছরের পর বছর ধরে। এছাড়া দেওয়ানি আইনের মতো ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য-প্রমাণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, অর্থাৎ আবেদনকারী নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হবে। আরো গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, সরকারের নির্দেশনা প্রদানের মতার নামে একটি উপধারা (২৯ ক) সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইন কিংবা আইনের মর্যাদাসম্পন্ন দলিলে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে রেকর্ড সংশোধনসহ ভূমির মালিকানা, নামজারি, নামজারি-সংক্রান্ত নথি বা আবেদন সম্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণ অথবা ভূমি জরিপের যেকোন পর্যায়ে চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষ কোনো প্রশ্ন উত্থাপন ব্যতিরেকে তা প্রতিপালনের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।’ এছাড়া বিশেষ আপিল নামে ১৮(ক) ধারায় একটি সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে নতুন সংশোধনী কার্যকরের ৯০ দিনের মধ্যে আপিল করার কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, হাইকোর্টের এক রায়ে ১৯৭৪ সালে শত্রু সম্পত্তি আইনের অবসান হয়েছে। ১৯৭৪ সালের ২৩ মার্চের রায়ে বলা হয়েছে যে, এ সময়ের পর নতুন করে কোনো সম্পদকে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তফসিলভুক্ত করা যাবে না। ভুক্তভোগীরা আশা করেছিলেন, ১৯৭৪ সালের রায় মেনে অর্পিত সম্পত্তি-সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হবে।
কিন্তু বর্তমান সরকার ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন অর্পিত সম্পত্তি নামে একটি ‘খ’ তফসিল সৃষ্টি করে যে তালিকা প্রকাশ করেছিল, তাতে নতুন নতুন সম্পত্তিও অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় যুক্ত হয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং নতুনভাবে বিবাদের সূচনা করেছিল। তালিকা দিনের পর দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকের মতে, এ নতুন তফসিল একদিকে যেমন বে-আইনি, অন্যদিকে সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ; যা বিভেদের সূত্রপাত করেছে নতুনভাবে। তবে সরকার ২০১৩ সালে ‘খ’ তালিকাভুক্ত জমি ফেরত দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু তা এখনো বাস্তবায়ন হচ্ছে না- এখানেই হচ্ছে বড় ধরনের সমস্যা।
অনেকে মনে করেন, সরকার একটি দুর্বল আইন প্রণয়ন করেছে ইচ্ছাকৃতভাবে, তহশিলদারদের প্ররোচনায় বা প্রভাবে। কর্তাব্যক্তিরা বুঝতেই পারেননি কোনটির অর্থ কী বা এর ফলে কী হতে পারে। তাদের অজ্ঞতার সুযোগে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে ভুক্তভোগীদের অধিকার হরণ করা হয়েছে। এছাড়া অনেকের বদ্ধমূল ধারণা, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ বিষয়ে আদালতের রায় অনুযায়ী এখনই বিহিত করা না হলে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত সাম্প্রদায়িকতার বিষাক্ত ছোবল দূর করা সহজ হবে না।
প্রধানত বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে তিনটি। নতুন করে কোনো সম্পতি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না এবং যাদের পৈত্রিক জায়গাজমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, তারা যেন সুযোগ পান সেই তালিকা থেকে তাদের সম্পত্তি অবমুক্ত করার। দ্বিতীয়ত. ‘খ’ তালিকাভুক্ত জমি ফেরত দেয়ার পর তা মিউটেশন বা খারিজ করতে হবে সঠিক মালিকের নামে এবং তা কীভাবে হবে এবং এ ব্যাপারে মতা কার চিহ্নিত করতে হবে। তৃতীয়ত. এসব ব্যাপারে স্থায়ী সমাধান করার লক্ষ্যে দুজন জেলা জজকে নিয়ে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা সঙ্গত। কিন্তু সপ্তম সংশোধনীর প্রস্তাবে ভিন্ন কথা বলে হয়েছে, যা বিষয়টিকে আরো অধিক জটিল করেছে।
বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের মতো প্রিয় হচ্ছে ‘ভূমি’। অথচ বাংলাদেশে কোনো সরকার ভূমি সংস্কার বা মালিকানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে দুর্নীতি পরিহারের মাধ্যমে ব্যাপক সংস্কার সাধনে মনোনিবেশ করেনি। কারণ তাদের অনেকেই হচ্ছে সুবিধাভোগী এবং উকিল-মোক্তার শ্রেণীর লোকজন। এ-জাতীয় মামলা না থাকলে তাদের আয়-রোজগার চলবে না বা তারা নিজেরাও মাতব্বরি করতে পারবে না।
সপ্তম সংশোধনীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হওয়ার পর কী জাতীয় ভয়াবহ সংশোধনী নিয়ে আবার সংশ্লিষ্টরা অগ্রসর হবেন তা বুঝে ওঠা সহজ হবে না। তবে সরকারকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে, ১৯৬৫ সালের মতো আরো অধিক বঞ্চনার সূত্র আবিষ্কার করে ভূমিদস্যুরা যেন অগ্রসর হতে না পারে। এদিকে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন প্রণীত হওয়ায় সুবিধা বঞ্চিতদের ক্ষেত্রে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। তবে সঠিক প্রয়োগের পথে সব অন্তরায় ও সমস্যার সমাধান অত্যন্ত জরুরি। এমন সমস্যা জাতীয় সংহতি ও সহমর্মিতার পথে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিরাজ করছে। রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে এর অগ্রগতির পথ।
স্বপন মির্জা: একুশে টেলিভিশনের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি এবং শারি’র দলিত এন্ড মাইনরিটি হিউম্যান রাইটস মিডিয়া ডিফেন্ডার ফোরামের সদস্য।

Facebook Comments