অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন আইনের ফাঁদে বরিশালের হাজার হাজার সংখ্যালঘু

 Posted on

কল্যাণ কুমার চন্দ, বরিশাল :: অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যাপর্ন আইন বাস্তবায়নের কারনে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশে প্রৈত্রিক সূত্রে বসবাসকারি হিন্দু সম্প্রদায়। এই আইন বাস্তবায়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন লাভ তো হয়ই নাই বরং উল্টো তাদের বাপ দাদার পৈত্রিক ভিটে বাড়ি সরকারের সহযোগীতায় জোর করে দখল/হাতিয়ে নিচ্ছে সরকার সমর্থিত প্রভাবশাীল ভুমিদস্যু গোষ্ঠি। এ আইন বাস্তবায়ন হলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমস্যা আরো বাড়বে বৈ কমবে না ।

অর্পিত সম্পত্তি আইনের কুফল
অর্পিত সম্পত্তি আইনের কোন সুফলই ভোগ করতে পারছেনা বরিশাল জেলার সংখ্যালঘু তথা হিন্দু সম্প্রদায়ের ভুক্তভোগি দারিদ্র জনগোষ্ঠি। বরিশালের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন ট্রাইব্যুনাল ২০১২/১৩ সালে জেলার ১০ উপজেলার ভুক্তভোগিরা প্রায় ৫১২৭টি মামলা করেছেন,আইনি জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে এখনো ১৫টি মামলারও চুড়ান্ত নিস্পত্তি করা হয়নি। বরিশালের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন ট্রাইব্যুনালগুলোতে (আদালতে) প্রতিদিন ভিপির মামলায় হাজিরা দিতে আসা কমপক্ষে ৩৫ থেকে ৭০ জন ভুক্তভোগিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদেরকে প্রতিনিয়ত কিভাবে হয়রানি হতে হয় তার বিভিন্ন করুন চিত্র। উজিরপুর উপজেলার দেবতোষ চন্দ, জয়ন্ত কুমার নন্দী, সুভাষ চন্দ্র আচার্য্য, অশোক কুমার দাস। বাকেরগঞ্জ উপজেলার মালতি রানী বেপারী। বানরীপাড়ার সুবল চন্দ্র বিশ্বাস, শেখর চন্দ্র বিশ্বাস, উজ্জল কুমার ঘড়ামি। আগৈলঝাড়া উপজেলার নারায়ন পান্ডে, বিমলা রানী পান্ডেসহ একাধিক ভুক্তভোগি অভিযোগ করে জানিয়েছেন, এ আইনের সুফলের স্থলে কুফলের কালো থাবায় প্রতিদিন হয়রানী হচ্ছে বরিশাল জেলার ১০ উপজেলার কমপক্ষে ৫ হাজার দরিদ্র হিন্দু সম্প্রদায়। তাদের পৈত্রিক বাপ দাদার ভিটে মাটি রক্ষা করার জন্য অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন ট্রাইব্যুনালে চলমান “ভিপি”র মামলা পরিচালনা করতে বরিশাল জেলার ১০ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহসিলদার থেকে শুরু করে আদালতের পিয়ন, পেসকার পর্যন্ত এক একটি তারিখেই একজন বাদির খরচ হয়ে যাচ্ছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। এ টাকার মধ্যে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা ব্যায় করতে হয় বাদি পক্ষের উকিল ও মহরির জন্য, বাকি টাকা আদালতের বিভিন্ন শাখায় শাখায় অতিরিক্ত হিসেবে। অতিরিক্ত না দিলে আবার মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ারও ভয় দেখানো হয়। অগত্যা বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত দিতে হয়। মামলার তারিখের দিন ধার দেনা করে টাকা খরচ করলেও দিন শেষে আদালতে শুনানি বা সাক্ষী না হয়েই সন্ধ্যা বেলায় আবার আগামি তারিখ হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে মামলার বাদিকে। মামলার তারিখের দিন সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে টাকা পয়সা নিয়ে হাজির হতে হয় আদালত চত্বরের উকিল পাড়ায়, সেখান থেকে মহরির মাধ্যমে হাজিরা লিখে আদালতের সেরেস্তায় হাজিরা জমা দিয়ে বেলা ১১ টা থেকে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় কখন ডাক পরে মামলার বাদির। অপেক্ষা করতে করতে এক সময় দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে গেলেও মামলার নথি ওঠেনা বিচারকের সামনে। বিকাল বেলায় জানা গেল আজ আর মামলা হবে না। আগামি তারিখ ২ মাস পরে। এবারে ২ দিন পরে নথি দেখতে গেলে দেখা গেল যে, নথিতে আদেশ লেখা হয়েছে অদ্য মামলাটির সাক্ষির জন্য ধার্য তারিখ ছিল, বাদি ও সরকার পক্ষ হাজিরা দিয়েছে, নথি উপস্থাপন করা হইল বাদি পক্ষকে বার বার ডাকিয়াও আদালতে উপস্থিত না পাইয়া আগামি …… তারিখ সাক্ষির জন্য ধার্য করা হইল। কি চমৎকার অর্পিত সম্পত্তি আইনের কুফল। বরিশাল আইনজীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবী ও জেলা মাইনরিটি রাইটস ফোরামের সভাপতি অনিল চন্দ্র দে বলেছেন, বাদিপক্ষ নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আদালতে উপস্থিত থাকা সত্বেও বিচারকের সামনে নথি উপস্থাপন না হওয়ার কারনে বিচার যেমন বিলম্বিত হচ্ছে, আবার একটি অদৃশ্য শক্তির ইশারায় মামলাটি খারিজ প্রক্রিয়ারও কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে এমন কৌশলী আদেশ লিখে। যা পরে বাদি পক্ষ উচ্চ আদালতে গেলেও তেমন কোন সু-বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবেই না। এ সকল কারনেই অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন আইনই বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য একটি অভিশাপ বলা যেতে পারে ।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন আইনের কালো থাবায় বরিশালের উজিরপুর উপজেলা ও পৌর সদরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার মর্মস্পর্ষি করুন ইতিহাস

৩৫/৮৯ নং দেওয়ানী মামলার স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ মহামান্য হাইকোর্ট থেকে বহাল থাকা এবং বরিশালের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন ট্রাইব্যুনালে চলমান ভিপি ১৪/১৪ নং মামলায় গত ২১ মে তারিখের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঝুমুর বালা উপজেলা ও পৌর সদরের অশিতিপর বৃদ্ধ দেবতোষ চন্দর পৈত্রিক ভিটেবাড়ির ৮০ শতাংশ জমি উজিরপুরের চিহ্নিত ভুমিদস্যুদের গত ৪ জুলাই লিজ (ডিসিআর) দিয়ে দেয়ার ফলে উক্ত জমি ভুমিদস্যুরা দখলের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে উজিরপুরের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন হতাশা প্রকাশ করেছেন। এ কারনে বৃদ্ধ ও অসুস্থ্য দেবতোষ চন্দ তার পরিবার পরিজন নিয়ে হামলা ও খুন জখমের ভয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন। ভুমিদস্যুরা ইতোমধ্যে দেবতোষ চন্দর বাড়িটি দখলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকার আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র সস্ত্র আমদানি করেছে বলে নাম প্রকাশে ইচ্ছুক নয় এমন একাধিক সুত্র থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। উজিরপুরের মাইনরিটি রাইটস ফোরামের সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা গৌরাঙ্গ লাল কর্মকার, সাধারন সম্পাদক শংকর মজুমদার, শৌভিক মিত্র, স্থানীয় ছাত্র সজল কর, সাবেক ইউপি সদস্য ও নারী নেত্রী গৌরী রানী বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেছেন, উজিরপুরের ইউ,এন,ও ঝুমুর বালা দেশের প্রচলিত আইনকে শ্রদ্ধা না করে বিভিন্ন সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের উপর অন্যায়ভাবে অত্যাচার করছেন। তারা অনতিবিলম্বে দেবতোষ চন্দর বাড়িতে দেয়া লিজ (ডিসিআর) বাতিলেরও দাবী করেন।
এছাড়া গত ১৪ মে শুক্রবার বরিশাল টাউন হলে একটি সভায় প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত হলে উজিরপুরের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় শতাধিক সাধারন মানুষ প্রতিমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং তিনি জেলা প্রসাশককে বিষয়টি সমাধানেরও নির্দেশ দেন। এছাড়া গত দেড় মাসে ইউ,এন,ও ঝুমুর বালাকে আইন অমান্য করে ওই জমিতে ডিসিআর না দিতে সচিবালয় থেকে একাধিক উপ ও যুগ্ম সচিব টেলিফোন করে নিষেধ করেছেন বলেও জানা গেছে। আদালত ও প্রসাশনের সকল আদেশ নির্দেশ উপেক্ষা করেই ঝুমুর বালা ওই জমি উজিরপুরের প্রখ্যাত চিহ্নিত ভুমিদস্যুদের নামে গত ৪ জুলাই ৮০ শতাংশ জমি লিজ দিয়ে দেন। লিজ গ্রহিতাদের মধ্যে রয়েছে আব্দুল হাই হাওলাদারের পুত্র জাহিদুর রহমানের কাছ থেকে ১৩৯৭ বাংলা সাল থেকে ১৪২৪ সাল পর্যন্ত বকেয়া লিজমানি বাবদ ২১ হাজার সাতশ’ টাকা গ্রহণ করে তার নামে হিন্দু পরিবারের সম্পত্তির ৩৫ শতক, একইভাবে এনায়েত হোসেনের স্ত্রী রাশিদা বেগমের নামে একই অর্থ আদায় করে ৩৫ শতক ও তরনী কান্তর পুত্র মাখন লালের কাছ থেকে বকেয়া লিজমানি বাবদ ছয় হাজার দুইশ’ টাকা গ্রহণ করে তার নামে ১০ শতক জমি বন্দোবস্ত প্রদান করেন।
জমির পৈত্রিক রেকর্ডিয় মালিক বৃদ্ধ দেবতোষ চন্দ কান্না জড়িত কন্ঠে আরো বলেন, উজিরপুর মৌজার জে.এল ৯২ এস.এ ৪১৭, ৪১৮নং খতিয়ানের ৭৩৩ ও ৭৩৪ নং দাগের ১ একর ৬৯ শতক সম্পত্তি তার পৈত্রিক রেকর্ডিয় ভিটা বাড়ি। তাদের সহয় সম্পত্তির ওপর দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ভুমিদস্যুদের লোলুপ দৃষ্টি পরে।
তার পৈত্রিক সম্পত্তি ভিপি তালিকাভূক্ত না হওয়া সত্বেও ওইসব প্রভাবশালীরা ১৯৮৯ সালে জনৈক মাখম লালের নামে একটি ডিসিআর আনেন। পরে তিনি (দেবতোষ চন্দ) বাদি হয়ে ডিসিআরের বিরুদ্ধে দেওয়ানী ৩৫/৮৯ নং মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের ৩১ জুলাই আদালতের বিচারক বাদির পক্ষে রায় প্রদানসহ একইসাথে ওই জমিতে সরকারের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষে বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী ১৮৭/৯১নং আপিল দায়ের করার পর দোতরফা শুনানী শেষে ১৯৯৩ সালের ১ আগস্ট নি¤œ আদালতের ৩৫/৮৯ নং মামলার রায় বহাল রেখে আপিল মামলাটি খারিজ করে দেয়া হয়। দেবতোষ চন্দ আরও জানান, পরবর্তীতে সরকার পক্ষ উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে মাহামান্য হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন নং ৪৯ (কনঃ) ১৯৯৫ দায়ের করেন। দোতরফা শুনানী শেষে নি¤œ আদালতের আদেশ বহাল রেখে ১৯৯৭ সালের ২৯ মে মহামান্য হাইকোর্টের বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন। ফলে আইনগতভাবে সরকারের এই জমিতে প্রবেশের আর কোন সুযোগ না থাকলেও হাইকোর্টের আদেশ অবমাননা করে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের যোগসাজশে ২০১২ সালে তৎকালীন উপজেলা প্রশাসন হিন্দু পরিবারের পুরো সম্পত্তি প্রকাশিত “ক” গেজেটে তালিকাভূক্ত করেন। “ক” গেজেট থেকে অবমুক্তির জন্য তিনি (দেবতোষ চন্দ) অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন ট্রাইব্যুনালে ভিপি ১৪/১৪ নং মামলা দায়ের করেন। যা বর্তমানে স্বাক্ষী চলছে এবং সেই সাথে একই আদালত গত ২১ মে সরকারের বিরুদ্ধে একটি ষ্টাটাসকোর আদেশও জারি করেন ।
কান্নাজড়িত কন্ঠে দেবতোষ চন্দ আরো বলেন, এই সম্পত্তিতে আমার ঠাকুর দাদার ঠাকুর দাদারও শ্মশান রয়েছে। ইউএনওর কাছ থেকে বন্দোবস্তের কাগজ নেয়ার পর থেকে প্রভাবশালীরা আমার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে পুরো পরিবারকে উৎখাত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে। আমি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা চাই।
দখল প্রতিরোধ ও লিজ বাতিলের দাবীতে ভুক্তভোগী দেবতোষ চন্দ ও উপজেলা মাইনরিটি রাইটস ফোরামের নেতৃবৃন্দ পৃথক পৃথকভাবে ১৬ মে রবিবার বরিশালের জেলা প্রসাশক বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন। দখল প্রতিরোধ ও ডিসআির (লিজ) বাতিল না হলে উজিরপুর ও বরিশালের কয়েকটি মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে মানব বন্ধন কর্মসূচী ঘোষনা করবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জোর করে জবর দখল করা সম্পত্তিগুলো ভোগ দখল করছেন রাজনৈতিক নেতারাই
জবর দখল করে নেওয়া সম্পত্তিগুলো ভোগ দখল করছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাশালী ভুমিদস্যুরাই। হিন্দুদের সম্পত্তি জবর দখল ও ভোগ করার বেলায় কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তেমন কোন বিভেদ নেই। সকল দলের নেতা, উপনেতা একত্রে দলমত নির্বিশেষে হিন্দু সম্পত্তি দখলের প্রতিযোগীতায় নামে এবং সম্পত্তি দখলে নিয়ে একত্রেই ভোগ দখল করে, হিন্দু সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে নিতে বা নেয়ার জন্য তারা সম্পত্তির প্রকৃত মালিকদেরকে খুন জখম করতেও ২ বার চিন্তা করে না। এটাই হচ্ছে বৃহত্তর বরিশালের প্রকৃত ঘটনা ।
অর্পিত সম্পত্তি আইনের সুফলভোগে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে কোন সহযোগিতাই করছে না বরিশালের প্রশাসন
অর্পিত সম্পত্তি আইনের সুফলভোগ করার জন্য বরিশালের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠিকে কোনপ্রকার সহযোগীতাই করে না বরিশালের প্রশাসন। বরং কি করে নিজের বাপ দাদার ভিটেবাড়ি থেকে সংখ্যালঘু পরিবারগুলো উচ্ছেদ হবে অথবা সম্পত্তি ভিপি তালিকাভুক্ত না হওয়া সত্তেও অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারিরা হিন্দুদের সম্পত্তিগুলোর বালামে লাল কালি দিয়ে ভিপি লিখে ঝামেলা বাজিয়ে হয়রানীর শিকারে পরিনত করছেন ধর্মীয় এ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ।

আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী কতটা উপকৃত হবে?
বাংলাদেশ মাইনরিটি রাইটস ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন বেপারী, বরিশাল জেলার সাধারন সম্পাদক রঞ্জিত কুমার কর্মকার, উজিরপুর উপজেলার সভাপতি গৌরাঙ্গ লাল কর্মকার, সম্পাদক শঙ্কর মজুমদার, গৌরনদী উপজেলা সম্পাদক প্রমানন্দ ঘড়ামিসহ একাধিক ভুক্তভোগিরা দাবি করেছেন সরকার যদি আন্তরিক ভাবে চায় যে, এ দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাক, শুধুমাত্র তবেই সম্ভব এ আইনের মাধ্যমে কিছুটা হলেও উপকার হতে পারে এ দেশের সংখ্যালঘুদের। তবে অর্পিত সম্পত্তি আইনের ফাঁদে পরা বরিশালের নির্যাতিত সংখ্যালঘুরা দাবী করেছেন যে, এ আইনে সংখ্যালঘুদের তেমন কোন উপকার হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে উপকার হবে রাজনৈতিক প্রস্রয়ে আশ্রিত হিন্দুদের জমি অবৈধভাবে দখলে থাকা এবং দখল করতে চাওয়া ওইসকল ভুমিদস্যুদেরই।
কল্যান কুমার চন্দ, দৈনিক সংবাদের উজিরপুর প্রতিনিধি এবং শারি’র দলিত এন্ড মাইনরিটি হিউম্যান রাইট মিডিয়া ডিফেন্ডার ফোরামের কোষাধ্যক্ষ।

Facebook Comments