অতিথি পাখিতে মুখর ইবি ক্যাম্পাস

 Posted on

রাজু আহমেদ: কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর। প্রতিবছর শীতকাল এলেই জলাশয়, বিল, হাওড়, পুকুর ভরে যায় নানা রংবেরঙের নাম না জানা পাখিতে। আদর করে আমরা সেগুলোকে বলি অতিথি পাখি। নাম অতিথি হলেও এই পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে আমাদের দেশে হাজির হয় নিজেদের জীবন বাঁচাতে। সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আসা এসব পাখির অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিনন্দন লেক।

কুয়াশাচ্ছন্ন ও শীতের আবহাওয়ায় সবুজে শোভিত বিশাল এই ক্যাম্পাসে অতিথি পাখিদের কলরব পাখিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে। কিচির-মিচির শব্দে নতুন এক আবহ সৃষ্টি হয়েছে ক্যাম্পাসে। এছাড়া পাখিপ্রেমীদের আগমনে ক্যাম্পাসকে করেছে আরো প্রাণবন্ত।

করোনার কারণে ক্যাম্পাস জনশূন্য হওয়ায় অন্য বছরের তুলনায় এবার দেখা মিলছে অধিক সংখ্যক পাখির। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে হিমালয়ের উত্তরে সাইবেরিয়া অঞ্চলে চাদর মুড়ি দিয়ে নামে হাড় কাঁপানো শীত। আর এ শীত সহ্য করতে না পেরে তুলনামূলক কম শীত অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে পাখিরা। তাই প্রতি বছর উষ্ণতার খোঁজে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল বাংলাদেশে পাড়ি জমায় তারা। গত কয়েক বছর ধরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক এলাকায়ও আসছে এসব পাখি। এখানে আসা বেশির ভাগ পাখিই হাঁসজাতীয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরালি হাঁস। এ ছাড়া ল্যাঞ্জা হাঁস, খুনতে হাঁস, বালিহাঁস, মানিকজোড় প্রভৃতিও রয়েছে। আকাশে উড়ে বেড়ানোসহ জলকেলিতে মেতে উঠছে এসব পাখি। কোনোটা সাঁতার কাটছে, কোনোটা মনের সুখে উড়ে বেড়াচ্ছে আকাশে, আবার কোনোটা গাছের এ-ডাল থেকে ও-ডাল ঘুরে নেমে আসছে পানিতে। কিছু আবার পালকের ভিতর মুখ গুঁজে রোদ পোহাচ্ছে। পাখিদের এ রকম খুনসুটি আর কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস।

করোনাকালেও অনেক পাখিপ্রেমী অতিথি পাখি দেখতে অনেকেই আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে। তবে লেকে কচুরিপানা থাকায় পাখিরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করতে পারছে না বলে দর্শনার্থীদের অভিযোগ। লেকে ঘুরতে আসা এক শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় অতিথি পাখির সংখ্যা এবার বেশি। লেকে কচুরিপানা থাকায় পাখিরা অবাধে বিচরণ করতে পারছে না।

শীত সহ্য করতে না পেরে অতিথি পাখিরা যে দেশে তুলনামূলক শীত কম সেখানেই চলে যায়। তাছাড়া শীতপ্রধান দেশে পাখিদের খাবার সংগ্রহে প্রচন্ড হিমশিম খেতে হয়। সেসময় ওইসব দেশে তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের নিচে। তাই শীত এলেই উত্তর মেরু, সাইবেরিয়া, ইউরোপ, এশিয়ার কিছু অঞ্চল, হিমালয়ের আশপাশের কিছু অঞ্চলের পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে চলে আসে তুলনামূলক কম ঠান্ডার অঞ্চলের দিকে। এছাড়া হিমালয়ের উত্তর দিকের দেশ সাইবেরিয়া থেকে বেশি অতিথি পাখি আসে। এসব পাখির মধ্যে রয়েছে- সরালি, ল্যাঞ্জা হাঁস, খুঁনতে হাঁস, বালি হাঁস, মানিকজোঁড় প্রভৃতি। অতিথি পাখি ছাড়াও ইবি ক্যাম্পাসে অনেক প্রজাতির দেশীয় পাখির মেলা বসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে অতিথি পাখি আমাদের দেশে এসেছে একটু উষ্ণতার জন্য। অথচ একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী শুধু অর্থের লোভে নির্মমভাবে এসব অতিথি পাখি শিকার করছে। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুসারে অতিথি পাখি শিকার ও বিক্রয় করা দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এ আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নেই বলে এই মৌসুমে পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে যেন নজর দেন।

পরিবেশবিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের প্রভাষক বিপুল রায় জানান, আমাদের ক্যাম্পাসে অতিথি পাখির আগমন একটি গর্বের বিষয়। আমাদের উচিৎ তাদের জন্য আবাস্থলগুলোর সুরক্ষা দেওয়া। আবাসস্থলগুলো যেন কেউ বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের রক্ষা করা উচিৎ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ও সচেতন হতে হবে। পাখিদের যেন কেউ ক্ষতি না করে।

Facebook Comments