অকালেই ঝরে গেল আকাশ

 Posted on


॥ দলিতকন্ঠ ডেস্ক ॥

আকাশ দাস। মাত্র ২০ বছর বয়সেই আকাশের তারা হয়ে গেল। কাউকে কিছু না বলেই চলে গেল অন্তরালে। আর কোনো দিন ফিরবে না সে আমাদের মাঝে।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে শারি সংস্থা পরিচালিত স্কুলের শিক্ষক আকাশ দাস। আকাশ দাসের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে গতকাল রাত ১০টায় মিরপুর ১০ নং এলাকায় চলন্ত মোটর সাইকেলের পিছনে থাকা অবস্থায় ট্রাক চাপায় সে নিহত হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার বন্দর ঋষিপাড়ার সনকুমার দাসের একমাত্র ছেলে আকাশ দাস পড়াশোনা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সদরের নয়ামাটি এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করতো। ডিজাইন সংক্রান্ত কাজেই এসেছিল ঢাকার মিরপুরে।

দলিত কমিউনিটি থেকে অনেক সংগ্রাম করে উঠে আসা আকাশ দাসের স্বপ্ন ছিল একজন বড় গ্রাফিক্স ডিজাইনার হওয়ার। আকাশ দাসের বাবা সনকুমার দাস সামান্য শ্রমিক হিসেবে নারায়ণগঞ্জ শহরতলীর জান্নাত খাদেজা টেক্সটাইল গার্মেন্টসে কাজ করে ছেলেকে লেখাপড়া শেখাচ্ছিলেন। স্বপ্ন দেখতেন ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে তাদের সংসারের অভাব ঘুচবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এভাবে অকালে ঝরে যাবে তা মানতে পারছেন না বাবা সনকুমার দাস, মা নিরুপা রানী দাস এবং একমাত্র বোন আকাশী রানী দাস।

বাবার সামান্য বেতন দিয়ে সংসার আর দুই ভাইবোনের পড়াশোনার খরচ চালানো খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠেছিল। তাই বাবাকে সহায়তা করতে টিউশনি দিয়ে শুরু হয় আকাশের জীবন সংগ্রাম। এরপর ২০১৮ সালে বন্দর ঋষিপাড়ায় শারি সংস্থা পরিচালিত প্রাথমিক শিক্ষা সহায়তা কেন্দ্রের শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করে আকাশ।

শিক্ষক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি শিক্ষকতায় প্রাপ্ত বেতন দিয়ে সে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শিখেছিল। করোনা মহামারির সময় তার বাবার অনিয়মিত বেতনে যখন সংসারের দৈনন্দিন জীবন যাত্রা দুর্বিসহ হয়ে ওঠে তখন সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরে আরপি প্রিন্টিং এন্ড এক্সসারিস প্রতিষ্ঠানে ডিজাইনার হিসেবে যোগদান করে আকাশ। এর পাশাপাশি সে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে বিবিএস ১ম বর্ষে পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছিল।

নিজের অনগ্রসর কমিউনিটিকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায় সেজন্য আকাশের প্রচেষ্টা ছিল নিরন্তর। তার মৃত্যুতে শারি সংস্থাসহ নারায়ণগঞ্জের দলিত পঞ্চায়েত ফোরাম, ছায়া পঞ্চায়েত এবং দলিত যুব ক্লাবে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

Facebook Comments