সাতক্ষীরার বাঁকাল খেয়াঘাট জেলেপাড়ায় হামলা: ভাঙচুর: লুটপাট ॥ দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

 Posted on

॥ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ॥
সাতক্ষীরা শহরতলীর বাঁকাল খেয়াঘাট জেলেপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চারজনকে পিটিয়ে জখম করার ঘটনায় জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নানসহ এজাহার বর্ণিত আসামীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টায় শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের সামনে আশাশুনি সাতক্ষীরা সড়কে এ কর্মসুচি পালিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি প্রাণনাথ রায় এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানবন্ধন কর্মসুচিতে বক্তব্য দেন জেলা যুব ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব রণজিৎ ঘোষ, জেলা যুব মহাজোটের সভাপতি সন্দীপ বর্মণ, যুব ঐক্য পরিষদের সদস্য মিলন রায়, মিঠুন ব্যানার্জী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কোন প্রকার কাগজপত্র ছাড়াই শহরের দক্ষিণ কাটিয়ার সানাউল্লাহ গাজীর ছেলে মুজিবর পেশকার পুলিন মাখালের কাছ থেকে ১৫ শতক জমি পাঁচ লাখ টাকায় মৌখিক ভাবে কিনেছেন দাবি করে তার ছেলে শুভ, স্থানীয় রমিজ ড্রাইভার, তার ছেলে আলমগীর হোসেনসহ কয়েকজন চলতি বছরের ৮ জুন রাতে তাদের পাড়ায় এসে রাতের মধ্যে হিন্দুদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে যায়। তা না হলে যুবলীগ আহবায়ক মান্নানের সহায়তায় তাদেরকে দেশছাড়া করার হুমকিও দেয়া হয়। এক পর্যায়ে ৯ জুন সকালে ওই সব হুমকিদাতাসহ কয়েকজন সুকুমার বিশ্বাসসহ কয়েকজনের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। বাধা দেয়ায় জয়দেব মাখাল, সহাদেব মাখাল, বিশ্বজিৎ মাখাল, শ্যামলী বিশ্বাস ও সরজিত কাজীকে পিটিয়ে জখম করে। তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় সুকুমার বিশ্বাস গত ৯ জুন বাদি হয়ে মুজিবর ড্রাইভারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দিলেও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান মামলা না নিয়ে মীমাংসার নামে নানাভাবে কালক্ষেপন করেন। আসামীপক্ষ যুবলীগ নেতা মান্নানের কাছের লোক বিধায় দেড় মাসের পুলিশ কোন মামলা নেয়নি।
বক্তারা আরো বলেন, যুবলীগ নেতা মান্নানের নেতৃত্বে ৩০/৪০জন বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যার পর তার বাড়ি ও পূর্ণিমার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ভাঙচুর ও লুটপাটে বাধা দেয়ায় তাকে, তার স্ত্রী অহল্যা, সহদেব মাখাল ও বলরাম মাখালকে পিটিয়ে জখম করা হয়। হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর তারা ঝাঁটা মিছিল নিয়ে সড়ক অবরোধ করলে মুজিবর ও তার ছেলেকে পুলিশ আটক করলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের কথায় ছেড়ে দিয়ে শুক্রবার সকালে থানায় আলোচনায় বসার কথা বলেন। অথচ শুক্রবার হামলাকারিপক্ষ থানায় আসেনি। বৃহষ্পতিবার রাতে তিনি বাদি হয়ে যুবলীগ নেতা আব্দুল মান্নানসহ পাঁচজনের নাম ও অজ্ঞাতনামা ১৬জনকে আসামী করে এজাহার দিলেও পহেলা আগষ্ট পুলিশ মামলা (২নং) রেকর্ড করে। ঘটনার চারদিন পরও কোন আসামীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি। ফলে মামলা তুলে নেয়ার জন্য আসামীরা বাদি ও সাক্ষীদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে।

Facebook Comments