আশাশুনি প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা সদস্যদের গণপদত্যাগ

 Posted on


রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা
আশাশুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম আহসান হাবীবের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ সদস্যরা তথাকথিত কার্যকরী কমিটি থেকে গণপদত্যাগ করেছে। অগঠনতান্ত্রিকভাবে ঘোষিত প্রেসক্লাবের ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটির নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক এস কে হাসান সহ ৮ জন এবং সাধারণ পরিষদের ৪ জনের মধ্যে ৪ জনই সহ ক্লাবের সর্বমোট ১৭ জন সদস্যের মধ্যে ১১ জন বর্তমান সভাপতি আহসান হাবীবের অধীনে দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানিয়ে রোববার একযোগে সাধারণ সম্পাদক জি এম আল ফারুকের কাছে স্ব-স্ব পদত্যাগ পত্র জমা দেন। একই সময়ে সভাপতির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ উল্লেখ করে উক্ত ১১ জন সদস্য স্বাক্ষরিত একটি অনাস্থা পত্র সাধারণ সম্পাদকের কাছে জমা দেন। এর আগে পদত্যাগী সদস্যগণ প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা আশাশুনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মোস্তাকিমের সাথে প্রেসক্লাব সংক্রান্ত বিষয়ে মতবিনিময় করেন। ১১ জন সদস্য একযোগে পদত্যাগের ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটি ও সাধারণ পরিষদ অকার্যকর হয়ে গেল। ফলে নির্বাচনের সাড়ে ৪ মাসের মাথায় আশাশুনি প্রেসক্লাবে সভাপতি আহসান হাবীব অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।
জানা গেছে, বিগত ৩০ জানুয়ারী ২০১৯ তারিখে প্রেসক্লাবের সর্বশেষ দ্বি- বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে এস এম আহসান হাবীব সভাপতি, জি এম আল ফারুক সাধারণ সম্পাদক এবং এস কে হাসান সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়। প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী “কার্যকরী পরিষদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনের ১৫ দিনের মধ্যে নব-নির্বাচিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক যৌথভাবে যোগ্য সদস্যদের নিয়ে বাকী পদ পুরণ করে কমিটি গঠন করবেন।” কিন্তু নির্বাচনের পর দীর্ঘ সাড়ে ৪ মাস অতিবাহিত হলেও নির্বাচিতরা গঠনতন্ত্র মোতাবেক পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করেননি সভাপতি।
অভিযোগ সভাপতি প্রেসক্লাবের আয় ব্যায় নির্ধারিত রশিদ বই ও ব্যাংকের মাধ্যমে না করে নিজের খেয়াল খুশি মতো করছেন। অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ের হিসেব নিকেশ তিনি কোন সভায় বা সাধারণ সদস্যদের কাছে পেশ করেন না। আর্থিক হিসেবের কথা বললে তিনি সদস্যদের সঙ্গে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেছেন। প্রেস ক্লাবের নামে বিভিন্ন অনুষ্ঠান/কর্মসূচীর কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে যৎ সামান্য খরচ করে সিংহভাগ নিজে পকেটস্থ করছেন।
অনাস্থা জ্ঞাপনকারী সদস্যরা হলেন বোরহান উদ্দীন বুলু, সচ্চিদানন্দদে সদয়, আব্দুল আলীম, সমীর রায়, মাসুদুর রহমান মাসুদ, গোপাল কুমার মন্ডল, এস কে হাসান আকাশ হোসেন, বাহবুল হাসনাইন, জি এম মুজিবুর রহমান, হাসান ইকবাল মামুন ও গোলাম মোস্তফা। এছাড়া অপর একজন সদস্য এ বিষয়ে একমত পোষন করলেও রোববার তিনি এলাকায় না থাকায় অনাস্থা পত্রে স্বাক্ষর করতে পারেননি।

Facebook Comments