বাগেরহাটে আবাসন সংকটের কারনে চরম দুরবস্থায় দিন কাটায় দলিত সম্প্রদায় : খাস জমির জন্য আবেদন করেও সাড়া মেলেনি

 Posted on

আজাদুল হক, বাগেরহাট ::
নিজস্ব ভুমি না থাকায় আবাসন জটিলতায় দুর্যোগকালিন সময় সহ প্রায় সারাবছরই চরম দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটায় বাগেরহাটের অধিকাংশ দলিত সম্প্রদায়ের মানুষরা। হতদরিদ্র এ স¤প্রদায়ের মানুষদের বংশ বৃদ্ধি পেলেও আবাসন ব্যবস্থা বৃদ্ধি না থাকায় তাদের সন্তান সন্তুতি নিয়ে খুবই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে। চলমান দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার মধ্যে শহরের ডোম পল্লীতে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, বাগেরহাট পৌর শহরের পুরাতন বাজার লিচু তলা এলাকায় মাত্র ১০ শতক জমিতে ডোম স¤প্রদায় বসবাস করছে। বর্তমানে ওই স¤প্রদায়ের ১৫/১৬ টি পরিবার খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছে। গাদাগাদি পরিবেশে শিশু ও নারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। ডোম স¤প্রদায়ের আবাসস্থলে ১৩টি পরিবারের মধ্যে বর্তমানে লাশ কাটা ডোম সূধীর (৪৬) এর সাথে তাদের বাগেরহাটে অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৯০৭ সাল থেকে বাগেরহাটের তৎকালীন জমিদার হেমলাল রায় ভারতের আড়িয়ারা প্রদেশ থেকে তার ঠাকুর মা ল²ী রানী ডোম (১২) কে বাড়ীর কাজ করতে নিয়ে আসেন। এখানেই ল²ী রানীর বিয়ে হয়। আর ল²ী রানীর গর্ভ থেকেই আমার পিতা সদ্য প্রয়াত হিরু ডোম। বংশানুক্রমে এখন গৌরী, সাবিত্রী, দুলাল, সুধীর, বাদল, মিন্ট, বিপ্লব, চান্দা, তারা, রাধা, জ্যোৎ¯œা, দিপালী ও রূপালীসহ তাদের সন্তান-সন্তুতি নিয়ে এখন ওই ১০ শতক জমিতে ১৫/১৬ টি পরিবার বসবাস করছে। জমিটুকু ওই জমিদারই ল²ী রানীকে দান করে যায়। হিরু ডোম যতদিন বেঁচে ছিলেন আবাসনের বিষয়টি চিন্তা করে দাবী করে গেছেন। এদেশের প্রতিটা জেলাই হরিজন কলোনী আছে, অথচ বাগেরহাটে কোন হরিজন কলোনী নেই। তাই সরকারী খাস জমিতে শুধু হরিজন ও ডোমদের জন্য একটি করে কলোনী করে দিলে বাগেরহাটের এ স¤প্রদায় নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থায় চলতে পারত। ডোম হরিজনদের নেতা শেখর চন্দ্র জমাদ্দার বলেন, বাগেরহাটে ডোম, হরিজন, হেলা, ঋষি স¤প্রদায়সহ ৪/৫টি সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছে। বাগেরহাট জেলা দলিত পরিষদ সভাপতি কালিদাস বলেন, বর্তমান সরকার দলিতদের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসুচী নিয়েছে পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরে এখানের সরকারী দপ্তরে খোঁজ নিতে গেলে তারা বিরক্তবোধ করে জানান, এধরনের কোন আদেশ বা নির্দেশ তাদের কাছে আসে নাই। আর ভুমিহীনদের জন্য খাস জমি বরাদ্দ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন সৎপরামর্শ পর্যন্ত দেয় না। বাগেরহাট জেলা কালেক্টরেট এর রাজস্ব শাখা থেকে বলা হয়, দলিত স¤প্রদায়ের জন্য পৃথকভাবে খাস জমি বরাদ্দ দেয়ার কোন নির্দেশনা বা বিধি নাই। ভুমিহীন হিসাবে খাস জমি বরাদ্দ পেতে খাসজমি বন্দোবস্ত কমিটির কাছে আবেদন করে তাদের যাছাই-বাছাই সুপারিশে খাস জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। বর্ষাকালীন সময়ে দলিত ভূমিহীনদের জন্য আবাসন সমস্যা নিরসনে সরকারী কোন উদ্যোগ আছে কিনা জানার জন্য বাগেরহাট জেলা সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডঃ মীর শওকাত আলী বাদশার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সার্বজনিন ভাবে কাজ করছে। জাতীয় বাজেটে দলিত সম্প্রদায়ের উন্নয়নে বরাদ্দ দিয়েছে। আর বাগেরহাটের দলিতদের জন্য করনীয় বিষয়ে আমি নিজেই জাতীয় সংসদে উত্থাপন করব। যাতে করে দলিত সম্প্রদায় তাদের আবাসন সম অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
আজাদুল হক, দৈনিক সংবাদের বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি এবং শারি’র দলিত এন্ড মাইনরিটি হিউম্যান রাইটস মিডিয়া ডিফেন্ডার ফোরামের সদস্য।

Facebook Comments