ঋষি সম্প্রদায়ের পৈতৃক জমি, শ্মশান ও হাটের জায়গা উদ্ধারের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় ভূমিহীন সমাবেশ অনুষ্ঠিত

 Posted on

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরা পৌরসভার বাটকেখালিতে বসবাসরত ঋষি স¤প্রদায়ের পৈতৃক জমি, শ্মশান ও হাটের জায়গা উদ্ধারের লক্ষ্যে ভূমিহীন সমিতির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় ভূমিহীন নেতা মিন্টু দাসের সভাপতিত্বে শুক্রবার বিকেল চারটায় বাটকেখালি গোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা ভূমিহীন সমিতির উপদেষ্টা রঘুনাথ খাঁ, সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক হোসেন মাহমুদ ক্যাপ্টেন, জেলা দলিত পরিষদের সভাপতি গৌর চন্দ্র দাস, সাংবাদিক মনসুর রহমান, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা পৌল সাহা, শিহাব উদ্দিন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বাটকেখালিতে ৩৫০ ঘর ঋষি স¤প্রদায়ের মানুষ বসবাস করতো। আইলুর নেতৃত্বে একটি মহল ওই সব ঋষি স¤প্রদায়ের সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে দেশ ছাড়তে বা অন্যত্র বসবাস করতে বাধ্য করে তাদের জমি কেড়ে জবরদখল করে রেখেছে। অথচ পৈতৃক ভিটা থাকার পরও অনেক ঋষি পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ ছাড়া বাটকেখালিসহ কমপক্ষে ১০টি গ্রামের হিন্দু স¤প্রদায়ের মানুষজনের সৎকারের জন্য ব্যবহৃত ও ডিএস রেকডীয় ১৬০৯ দাগের ৩২ শতক ও হাটবাজারের জন্য ডিএস রেকডীয় ১৬১০ দাগের ৩১ শতক জমি ছাড়াও ১৫৭৮ দাগের ৩৪ শতক রাস্তা ও পার্শ্ববর্তী ১৫৮১ দাগের দু’ শতক জমি আইন না থাকার পরও তহশীলদার ও সহকারি ভূমি কমিশনারদের ম্যানেজ করে ইয়াকুব জমাদ্দারসহ কয়েকজন ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড করিয়ে মাছ চাষ করে খাচ্ছে। শ্মশান ও হাটবাজারের নামে রেকডীয় জমি জনস্বার্থে ব্যবহারের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে সদর সহকারি ভূমি কমিশানারের তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা মিললেও আজো পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এমনকি কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে দু’ বিঘা সরকারি খাস জমি ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানালেও তা জবরদখল করে খাচ্ছে ভূমিদস্যুরা। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে ঋষি স¤প্রদায়ের জবরদখলকৃত জমি, শ্মশান ও হাটবাজারের জমিসহ এলাকার যাবতীয় খাস জমি উদ্ধার করতে হবে। ভূমিহীন আন্দোলনের পথিকৃৎ পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত প্রয়াত কৃষকনেতা সাইফুল­াহ লস্করের ১০ম মৃত্যু বার্ষিকী যথাযথভাবে পালন করতে হবে। তার অসমাপ্ত কাজ আমাদের সমাপ্ত করে আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে।

Facebook Comments