নতুন বিচারপতি মনোনয়নে রিপাবলিকান ডেমোক্রেট বিরোধ

 Posted on

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গতকাল মারা যান মার্কিন সুপ্রিমকোর্টের প্রবীণ বিচারপতি রুথ ব্যাডার গিন্সবার্গ। নারী অধিকার, আইনের শাসন ও নাগরিক স্বাধীনতার অন্যতম একজন প্রতিনিধি ছিলেন গিন্সবার্গ। নির্বাচনের ৪৬ দিন পূর্বে এ বিচারকের মৃত্যু যুক্তরাষ্টের সুপ্রিমকোর্টে এনে দিয়েছে এক সংখ্যাগরিষ্ঠতার লড়াই। বিবিসি, আল-জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের বিচারকের সংখ্যা নয়জন। গতকাল উদারবাদী বিচারক গিন্সবার্গের মৃত্যুতে রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের সুযোগ হয়েছে একজন রক্ষণশীল বিচারক নিয়োগ দিয়ে সুপ্রিমকোর্টে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠিত করার। গত পাঁচ দশকে প্রথমবারের মতো ৪-৫ ব্যবধানে সুপ্রিমকোর্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে রক্ষণশীলদের। রিপাবলিকানরা চান নভেম্বরের নির্বাচনের পূর্বেই বিচারক নিয়োগ দিতে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা চান নির্বাচনের পরে বিচারক নিয়োগ দেয়া হোক।

ইতোমধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইট বার্র্তায় বলেন, এক সপ্তাহের মাঝে গিন্সবার্গের স্থলাভিষিক্ত প্রস্তাব করা হবে এবং তিনি হবেন একজন নারী। এদিকে বিরোধীদলীয় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী টুইটবার্তায় বলেন, এটা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, প্রথমে মার্কিন নাগরিকরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন এবং নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পরে গিন্সবার্গের উত্তরসূরি মনোনীত করবেন।

মার্কিন নির্বাচনে বিচারপতিদের কি প্রভাব রয়েছে?

সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে মার্কিন নির্বাচনে। মার্কিন নির্বাচনে বিচারপতিদের প্রভাব বোঝা যায় ২০০০ সালের মার্কিন নির্বাচন বিশ্লেষণ করলে। ৪-৫ ব্যবধানে তখন সুপ্রিমকোর্টে প্রতিনিধিত্ব করেন রিপাবলিকানরা। এর ফলেই মূলত জর্জ ডব্লিউ বুশ নির্বাচিত হতে পেরেছিলেন।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদন জানায়, দ্বিতীয়বারের মতো এবার মার্কিন নির্বাচনের আগমুহূর্তে মারা গেলেন সুপ্রিমকোর্টের একজন বিচারপতি। এর আগে ২০১৬ সালে আরেকবার এরকম পরিস্থিতি হয়েছিল।

নির্বাচনের পূর্বে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে বিচারপতির স্থলাভিষিক্ত নিয়োগ দেয়ার চিন্তা করা হবে বোকামি। ২০১৬ সালে ডেমোক্র্যাট নেতা বারাক ওবামাকে বিচারক নিয়োগে বাধা দিয়েছিল রিপাবলিকান সিনেট লিডার মিচ ম্যককনেলসহ অন্যরা। তখন রিপাবলিকানরা বলেন, এটা উচিত নয় যে একই রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতির পদ ও সিনেট দুটোই নিয়ন্ত্রণ করবেন। তারা তখন নতুন বিচারপতি নিয়োগের পূর্বে ভোটারদের মতামত নেয়ার জন্য একটি পোল করার প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এরপর ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বিচারপতি মনোনীত করেন।

ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী কি বিচারপতি হতে পারবেন?

ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী বিচারপতি হতে হলে সিনেটের মোট ১০০ আসনে ৫০ জনের ভোট পেতে হবে। বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকান সিনেটর আছেন ৫৩ জন এবং ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর রয়েছে ৪৫ জন। বাকি দু’জন স্বতন্ত্র। তবে রিপাবলিকান ৫৩ জনের মাঝে দু’জন ইতোমধ্যেই বেঁকে বসেছেন। তারা হলেন সুসান কলিন্স ও লিসা মারকোভস্কি। তারা বলেন আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেন বিজয়ী হলে তারা বিচারপতি নিয়োগে বাইডেনের পক্ষ নেবেন।

সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি কেন এতে গুরুত্বপূর্ণ?

সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিরা মূলত আজীবনের জন্য নির্বাচিত হন সিনেটরদের সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভোটে। মার্কিন আইন প্রণয়নে এ বিচারকদের প্রভাব অনস্বীকার্য। ট্রাম্প যদি নির্বাচনের পূর্বে বিচারক নিয়োগ করতে পারেন তবে আশা করা যায় আগামী ৩০ বছর সুপ্রিমকোর্টে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে।

যদি ট্রাম্প কোন নাম প্রস্তাব করেন তবে তা হতে পারে সম্ভবত অ্যামি কনি ব্যারেট যিনি গত দু’বার বিচারপতির শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রেসিডেন্টের বিবেচনাধীন ছিলেন। যদি তিনি বা তার মতো অন্য কেউ শূন্যতা পূরণ করে তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রিপাবলিকানদের হাতে চলে যাবে।

এর ফলে গর্ভপাতের অধিকার, অভিবাসন নীতি প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টে রিপাবলিকানদের বিজয় হবে। এছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা, সমলিঙ্গের বিয়ে, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, ভোটাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতাসহ আরও নানা বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়ন সুপ্রিমকোর্টে রিপালিকানদের জন্য সহজ হবে।

Facebook Comments