কলকাতায় আটক চার জঙ্গি স্লিপার সেলের সদস্য

 Posted on


দলিত কন্ঠ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলকাতার শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন থেকে ধরা পড়ল বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি-র চার সক্রিয় সদস্য। তাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে  আরেকবার প্রমাণ হলো যে নব্য জেএমবি পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের জাল বিস্তারের চেষ্টা করেছে।

ওই চারজনকে আটক করেছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ একটি দল। আটকরা হলেন, মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান ওরফে মহসিন, মামুনুর রশিদ, মুহাম্মদ শাহিন আলম ওরফে আলামিন এবং রবিউল ইসলাম।

বাংলাদেশের সাথে সাথে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং ত্রিপুরায় জাল বিস্তার করার হুমকি আগেই দিয়েছিল জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আটকদের মধ্যে মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান ওরফে মহসিনের বাড়ি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জে, মামুনুর রশিদের বাড়ি রংপুরে এবং মুহাম্মদ শাহিন আলম ওরফে আলামিন রাজশাহীর বাসিন্দা। বাংলাদেশের পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার হাত থেকে বাঁচার জন্য তারা পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে আসেন কিছুদিন আগে।

কলকাতা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিয়ালদা স্টেশনের পার্কিং এলাকা থেকে মঙ্গলবার সকালে মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান ওরফে মহসিন, মামুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদেরইজজ্ঞাসাবাদ করেই খোঁজ মেলে রবিউল ও আলামিনের। হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকে তাদের আটক করে পুলিশ।

জানা গেছে, রবিউল বীরভূমের নয়াগ্রামের বাসিন্দা। রবিউলের বাবা এরজাহান শেখ কালের কণ্ঠকে জানান, দিন দশেক আগে রবিউল তার বাসায় মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান ও মামুনুর রশিদকে আশ্রয় দেয়। বাসার মানুষদের রবিউল জানায়, এরা তার বন্ধু।

কিন্তু তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় গ্রামের অনেকেই প্রশ্ন করতে শুরু করেন। গতসপ্তাহে হঠাৎ একদিন তিন জনই বাসা থেকে পালিয়ে যান। পরে রবিউলকে বাসা থেকে কল দেয়া হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, রবিউলের বাসা থেকে নিখোঁজের ডায়েরিও করা হয়।

গোয়েন্দা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নব্য জেএমবি পশ্চিমবঙ্গে অনেক স্লিপার সেল তৈরি করেছে এবং রবিউল এমনই একটা স্লিপার সেলের  সদস্য। তারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে তরুণদের নিজেদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করত।

তিনি আরো বলেন, আটকদের কাছ থেকে জিহাদি বই, জইশ-ই-মুহাম্মদ প্রধান মওলানা মাসুদ আজহারের ভিডিও এবং অনেক অডিও ফাইল পাওয়া গেছে। এরা তরুণদের মগজ  ধোলাই করে নব্য জেএমবির সদস্য করার সাথে সাথে অর্থ সংগ্রহ করত ধর্মের কথা বলে।

বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর থেকেই কেন্দ্রের নিশানায় ছিল জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) জঙ্গিগোষ্ঠী। তাদের গতিবিধির ওপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছিল। ২০১৬ সালে ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিসান বেকারিতে জঙ্গি হামলা চালায় সেই জঙ্গিগোষ্ঠী। সেই ঘটনায় ২০ জনের মৃত্যু হয়।

তারপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর ওপর যে অভিজান চালায়, সেই সময় অনেক জঙ্গি পালিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে  এবং নব্য জেএমবির জন্ম হয়।

সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি নোটিস জারি করে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তে লাগোয়া বেশ কয়েকটি জেলাতে তাদের বেস ক্যাম্প তৈরি করার পরিকল্পনা করছে নব্য জেএমবি। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ ভারতে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করার চেষ্টা করছে এই জঙ্গিগোষ্ঠী।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, এবার জঙ্গি সদস্যরা গ্রেপ্তার হওয়ার মাধ্যমে প্রমাণ হলো যে, পশ্চিমবঙ্গে তাদের জাল বিস্তার করতে অনেকটাই সফল নব্য  জেএমবি।

২০১৪ সালে বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর প্রথম নজরে আসে যে, জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) জঙ্গিগোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয়। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাথে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে তাদের গতিবিধির ওপরও কড়া নজর রাখাও হচ্ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, রবিউলের বড় ভাই জুলফিকার হায়দারের নাম ২০১৪ সালে বর্ধমানের খাগড়াগড় জেএমবি জঙ্গিগোষ্ঠীর বিস্ফোরণে উঠে আসে। তারপর তাকে গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়।

 

Facebook Comments